চৌধুরী রুহাশ
প্রেম খেয়ে ফেললে কবিতার মৃত্যু হয়,
যেভাবে আলো খেয়ে ফেলে অন্ধকার—
নিঃশব্দে, কোনো অনুমতি ছাড়াই।
ভালোবাসা হিসেব করে বসে
বিগত দিনের সওদা।
কতটুকু দিয়েছিলাম, কতটুকু পেয়েছি—
এই অঙ্কের খাতায়
কবিতার কোনো ঘর নেই।
যে মানুষ ভালোবাসে,
সে আসলে নিজের জন্যই ভালোবাসে।
উষ্ণতা চায়, স্পর্শ চায়,
কেউ একজন থাকুক—
এই চাওয়াটুকুই তার বেঁচে থাকার কারণ।
বাঁচার আগ্রহ মানেই নিজের স্বার্থসিদ্ধ করা।
এই সত্যটা বলতে নেই,
তবু এটাই সত্য।
কবিতা লেখা হয় যখন
বুকের ভেতর কিছু একটা অসম্পূর্ণ থাকে—
কোনো কথা বলা হয়নি,
কোনো দরজা খোলা হয়নি,
কোনো নাম ধরে ডাকা হয়নি শেষবারের মতো।
কিন্তু ভালোবাসা যেদিন পরিপূর্ণ হয়,
সেদিন কলম থামে।
কারণ আর কিছু বলার থাকে না।
আর কিছু না বললেই
কবিতা মরে যায়।
তাই
কবিরা প্রেমে পড়ে,
উঠতে পারে না।
পড়ে থাকে।
কবিরা প্রেম চেনে,
কিন্তু ধরতে পারে না—
যেভাবে জল চেনা যায়,
মুঠোয় আসে না।
কবিতার কোনো ঘর নেই,
কবিদের পথেই বয়স হারিয়ে যায়।
স্বার্থকে অস্বীকার করতে করতে
একদিন নিজেও হারিয়ে যায়—
পদচিহ্নও মুছে যায়,
তবুও কাগজ মনে রাখে—
বুকের দাগ,
নীরব চিৎকার।
ব্যর্থতাকে আঁকড়ে রাখে
যেভাবে শীতকাল আঁকড়ে রাখে শূন্য মাঠ।
ভালোবাসার হিসেবের বাইরে
একটুকু অন্ধকার রেখে দেয়—
সেই অন্ধকারেই
পরের কবিতার বীজ।
বাঁচার আগ্রহ মানেই স্বার্থ।
ভালোবাসার আগ্রহ মানেও স্বার্থ।
কবিতার আগ্রহ মানে—
সেই স্বার্থকে অস্বীকার করতে করতে
তবু বেঁচে থাকা।





















