মো: শাহীন আলম : শিক্ষাকে বলা হয় একটি জাতির মেরুদণ্ড। এটি কেবল জ্ঞানার্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি সভ্য, নৈতিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভিন্ন। বিগত সময়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রান্ত হয়েছিল দলীয় রাজনীতির করালগ্রাসে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেখানে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রাণকেন্দ্র হওয়ার কথা ছিল, সেখানে সেই মহৎ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে ক্রমে দলীয় আধিপত্য ও ক্ষমতার নগ্ন রাজনীতির নির্মম আখড়ায় রূপ নিয়েছিল।
উপাচার্য থেকে শুরু করে সাধারন কর্মচারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার পূর্ব তাদের দলীয় পরিচয়কে দেখা হতো। একইভাবে, দলীয় রাজনীতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি গোষ্ঠীবদ্ধ মনোভাব তৈরি করে। যার ফলশ্রুতিতে শিক্ষাঙ্গন হয়ে উঠছিল সহিংসতা, চাঁদাবাজি, সিট-বাণিজ্য, দখলদারিত্ব বিভাজন ও আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্র। ব্যাহত হতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। জুলাই-আগস্ট ‘২৪-এর ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে এ পরিস্থিতির কিছুটা অবসান ঘটলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন পূর্বের প্রথায় ফিরে যেতে প্রস্তুত। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন করে দেশের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের দলীয় লোকদের ভিসি নিয়োগ আবার পূর্বের অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমান সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে আহ্বান থাকবে, শিক্ষাঙ্গনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে মুক্তচিন্তা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার নিরাপদ ক্ষেত্রে রুপান্তর করা।
লেখক : শিক্ষার্থী, আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।





















