চোখের পলকে পা ফসকে সে চলে গেল বাসের চাকার

প্রিয় সৌরভ,

শুভেচ্ছা নিও। আজ অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে তোমাকে লিখছি। চোখের সামনেই ঘটে গেল প্রিয় বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে বন্ধু রায়হান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আমার চোখের সামনে। অথচ রায়হানের অস্তিত্ব বার বারই আমাকে ব্যথিত করছে, কিছুতেই ওর স্মৃতি ভুলতে পারছি না। সেদিন স্কুল ছুটি হওয়া মাত্র, আমরা ছুটোছুটি করে এসে বাসে উঠি। জানোইতো রাজধানী শহরের প্রতিটি সরকারি স্কুলে প্রচুর বাস ছাড়ল না। যখন বাসটিতে তিল ধারণের আর জায়গা নেই; ছাত্ররা কোথা থেকে দৌড়ে ছুটে এলো রায়হান। এক লাফে হ্যান্ডেল ধরে চলন্ত বাসে উঠতে চাইল। কিন্তু না, পারল না। চোখের পলকে পা ফসকে সে চলে গেল বাসের চাকার নিচে। সঙ্গে সঙ্গে এক মর্মান্তিক আর্তনাদ। বাস ভর্তি ছাত্রছাত্রীর গগনবিদারী চিৎকার চারদিক প্রকম্পিত করে তুলল। ড্রাইভার মুহূর্তে হাওয়া হয়ে গেল। পুলিশ এসে রায়হানের রক্তাক্ত লাশ তুলে হ্যান্ডেল ধরে উঠেছি। সামান্য ভুলে এ রকম মর্মান্তিক মৃত্যুর আশঙ্কা আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। রায়হানের মৃত্যু আমার জীবনে চিরস্মরণীয় কষ্টদায়ক অম্লান এক ঘটনা। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি-আর কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো যানবাহনে চড়ব না। ধীরস্থিরভাবে যানবাহনে চলাফেরা করাটাই নিরাপদ। আমার অনুরোধ, তুমিও কখনো যানবাহনে ঝুঁকি নিয়ে উঠবে না।

তোমার আব্বা-আম্মাকে আমার সালাম জানাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *