মুহুর্তের আমি


জুয়েল

নিজস্বতা বা স্বকীয়তা আর আমি যেমন আছি তেমনই ভাল – অন্যের জন্য পরিবর্তিত হব না – এই দুই মনোভাব মনে হয় এক না। ফেসবুকে মাঝেমাঝেই এমন অনেক Quote দেখি যার মোটামুটি বক্তব্যটা হলো আমি এমনই – তোমার ভাল লাগলে ভাল না লাগলে আমার কিছু করার নাই। আমি তোমার জন্য পরিবর্তিত হতে পারব না।

এই বিষয়টাতে আমি কখনই একমত হতে পারি না। জীবন সবসময়ই পরিবর্তনের জন্য। আর সেই পরিবর্তনটা যদি হয় প্রিয় কারও জন্য, অথবা কোন কিছু ভাল হবার জন্য তাহলে সেটাকে স্বাগত জানানোটাই ভাল নয়কি? আমি বদলাব না – এটা ঔদ্ধত্য। পৃথিবীর সবাই যদি এই মনোভাব নিয়ে থাকে তাহলে কোনদিন পৃথিবী এগুবে না। সময়ের সাথে, পরিবেশের সাথে পরিবর্তন আসবেই – যা খেয়াল রাখতে হবে – তা হলো পরিবর্তনটা ভালর জন্য কি না।

খালি ভেবে দেখুন – পাড়ার বখাটে ছেলেটা যদি বখাটেই থেকে যায়, মাদকাসক্ত একজন যদি মাদকাসক্তই থেকে যায় – তাহলে কি হবে? আজকে আমি যদি ন্যায় নীতির, সত্য-মিথ্যা এইসব মৌলিক বিষয়ের কথা বলি – তাহলে আলাদা কথা। সময়, পরিবেশ সব পাল্টালেও এগুলো পাল্টায় না। কিন্তু ব্যাক্তি আমি যদি পরিবর্তন বিমূখ হই – তাহলে জীবন আগাবে কিভাবে?

আর জীবন কি সবসময়ই নিজের জন্য? আমার তো মনে হয় জীবন আমরা অধিকাংশ সময়ই কাটাই অন্যের জন্য। পরোপকার, পরমতসহিষ্ণুতা, দলীয় বা পারিবারিক সিদ্ধান্তকে মেনে চলা, বড়দের কথা মেনে চলা, অন্যের ভালর জন্য কিছু করা নিজের কথা না চিন্তা করে – এই কথাগুলোই তো মিথ্যা হয়ে যাবে যদি আমি বলি – আমি যেমন আছই তেমনই ভাল – পোষালে থাক নাইলে যাও।

সেই জীবনের কি দাম যা আর দশটা মানুষের ভাল লাগার সাথে সম্পৃক্ত নয় – আর দশটা মানুষ আমার ভাল দেখুক বা না দেখুক। Being Me/Myself অবশ্যই দরকার কিন্তু তার আগে সেই ব্যাক্তি আমিকে তৈরী এবং লালন পালণ তো করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *