স্পিক আপ বাংলাদেশ সিজন-২ অনুষ্ঠিত

সুমাইয়া আক্তার সুইটি : ইয়ুথ আপস্কিল নেটওয়ার্ক (ইউনেট) সফলভাবে ইউনেট স্পিক আপ বাংলাদেশ সিজন ২- এর চূড়ান্ত পর্ব আয়োজন করেছে। এটি জাতীয় পর্যায়ে পাবলিক স্পিকিং চ্যাম্পিয়নশিপ, যার লক্ষ্য বাংলাদেশের তরুণদের ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা।

ইভেন্টের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৩০’শে এপ্রিল ২০২৬, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। ইভেন্টটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য সিইউবি ক্যারিয়ার এন্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ক্লাব সহযোগিতা করেছে। দেশব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেধাবী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছেন। এটি তরুণ পরিবর্তন প্রত্যাশীদের জন্য নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করা, দর্শকদের অনুপ্রাণিত করা এবং প্রভাবশালী গল্প বলার দক্ষতা প্রদর্শনের একটি অনন্য প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

প্রতিযোগিতাটি একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল যার মধ্যে ছিল অনলাইন নিবন্ধন, বিশেষায়িত পাবলিক স্পিকিং কর্মশালা, ভিডিও ভিত্তিক প্রাথমিক পর্ব এবং ঢাকায় চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীরা ইউনেটের সদস্যপদ পাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যতে যুব উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্বেগে অংশগ্রহণের সুযোগও পেয়েছিল।

ইভেন্টের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক। তিনি আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। যারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবে।

একটি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ চূড়ান্ত পর্ব শেষে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের আদিবা সুলতানা আলিফা ইউনেট স্পিক আপ বাংলাদেশ সিজন ২- এর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মালিহা আলম প্রথম রানারআপ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনস (বিইউপি) এর টিএম ওয়ালিউল্লাহ তূর্য দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন।
বিচারক প্যানেলের ছিলেন বিশিষ্ট পেশাজীবী ও তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন ঈশা খান যিনি একাধারে ইভেন্ট হোস্ট, প্রশিক্ষক এবং আইডিয়াগো মার্কেটিং সলিউশনস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অদ্রিকা ঈশান পূর্বাশা সমাজকর্মী লেখক ও গবেষক এবং মাইক্রোফাইনান্সের ম্যানেজার, ফারিহা বাশার কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্কুল অব বিজনেসের প্রভাষক এবং ফাইরানা আফসানা ওয়াইওয়াই ভেঞ্চারস এর অ্যাসোসিয়েট।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইয়ুথ আপস্কিল নেটওয়ার্কের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এবং প্রতিযোগিতার ইভেন্টের অ্যাডভাইজার মোঃ আলতামিস নাবিল বলেন, বর্তমান বিশ্বে পাবলিক স্পিকিং বা জনসম্মুখে কথা বলার দক্ষতা এখন আর কেবল একটা ঐচ্ছিক বিষয় নয়। স্পিক আপ বাংলাদেশের মাধ্যমে আমরা একদল আত্মবিশ্বাসী তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করতে চাই, যারা নিজেদের ভাবনা গুলোকে চমৎকার ভাবে তুলে ধরবে। ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উপস্থাপনা করবে। ভবিষ্যতে আমাদের লক্ষ্য হলো স্পিক আপকে বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পর্যায়ে তরুণদের কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্বের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা।

ইভেন্ট ডিরেক্টর মাহির আসিফ ইয়ুথ আপস্কিল নেটওয়ার্ক (ইউনেট) এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিওও বলেন সিজন টু আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়, বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং আরও বেশি প্রভাবশালী ছিল। আমরা বিশ্বাস করি, এই তরুণদের আত্মবিশ্বাস নেতৃত্বগুণ এবং যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশে অনুপ্রাণিত করতে থাকবে।

ইভেন্টটি আহ্বান করেছিলেন ইউনিট এর হেড অভ ক্রিয়েটিভ এবং সিইউবি ক্যারিয়ার এন্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ রবিউল ইসলাম, পাশাপাশি আয়োজক, সেচ্ছাসেবক, অংশীদার এবং সহযোগী সংগঠনগুলো নিবেদিত প্রচেষ্টায় এটি সম্পূর্ণ হয়।

ইউথ আপস্কিল নেটওয়ার্ক (ইউনেট) হলো বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম, যা দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্বের সুযোগ এবং গ্লোবাল নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়নে কাজ করে। এই প্লাটফর্মটি মূলত তরুণ প্রজন্মের সাথে বিভিন্ন সুযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করার দিকে নজর দেয়। তারা বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম উদ্বেগ এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, যা তরুণদের কর্পোরেট উদ্যোক্তা এবং সামাজিক খাতে সফল হতে প্রস্তুত করে তোলে। আশা রাখবো ভবিষ্যতেও ইউনেট এভাবেই তরুণদের উন্নয়নে কাজ করে যাবে।

লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ,ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *