বাংলাদেশে ধর্ষণের কারণ এবং প্রতিকার

মো: শাহীন আলম : ধর্ষণ! শব্দটি শোনার সাথে সাথে আমাদের সামনে ভেসে উঠে এক ভয়ংকর দৃশ্য। যেখানে জড়ো হয়েছে হাজারো বাবা-মায়ের কান্নাভরা চোখের পানি। শত শত মেয়ের অপূর্ণ স্বপ্ন। এটি এমনই একটি ভয়ংকর আযাব যা কোন ব্যাক্তিকে নয় বরং পুরো জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। রুখে দেয় হাজারো নারীর স্বাভাবিক পথচলা। হরণ করে নেয় শত শত নারীর স্বতীত্ত্ব। বর্তমানে আমাদের দেশে ধর্ষণ এমনই ভয়ংকর আকার ধারন করেছে যা মহামারীকেও হার মানায়।

ধর্ষণ কী?

ধর্ষণ হলো এক ধরনের যৌন নিপীড়ন। কোন নারীর সম্মতি ব্যাতিত অথবা জোরপূর্বক, ভয়, প্রতারনা বা অন্য কোন উপায়ে সম্মতি আদায় করে তার সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়াই ধর্ষণ। WHO এর মতে সাধারণত একজন ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম বা অন্য কোনো ধরনের যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে ধর্ষণ বলা হয়। ধর্ষণ শারীরিক বলপ্রয়োগ, অন্যভাবে চাপ প্রদান কিংবা কর্তৃত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত হতে পারে। অনুমতি প্রদানে অক্ষম কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌনমিলনে লিপ্ত হওয়াও ধর্ষণের আওতাভুক্ত।

বাংলাদেশে ধর্ষণের চিত্র!

বর্তমানে ধর্ষন যে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এমন কোন দিন নাই যেই দিন ধর্ষনের ঘটনা শুনা যায় না। গত দুয়েক বছর ধর্ষনের সংখ্যা যদিও কিছুটা কমছে কিন্তু তারপরও তা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। আইন এবং সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর তথ্যমতে গত ১২ বছরে বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১০৬৭২টি। এর মধ্যে দলগতভাবে ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ২৫২৩টি। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৫২ জনকে এবং আত্মহত্যা করেছে ১০৪ জন। ঠিক এই সময়ে ধর্ষনের চেষ্টা করা হয়েছে ১৮৭১ জনকে। ধর্ষণের শিকার অধিকাংশই ছিল ১৮ বছরের নিচে। বয়স উল্লেখ করা হয়েছে এমন নারী এবং শিশুর প্রায় ৮১% ই ছিল ১৮ বছর এর নিচে । তাদের সংখ্যা ছিল ৪২৪৬ জন। বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০২৪ সালে সবচেয়ে কম ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে জুলাই গনঅভ্যুত্থানের পর এই সংখ্যা আরও কমে গেছে। আসক এর তথ্যমতে ২০২৪ সালে ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে ৪০১টি। তারমধ্য ৯৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে জুলাই গনঅভ্যুত্থানের পর। যা বিগত কয়েকবছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। কিন্তু ২০২৫ থেকে এই সংখ্যা আবার বাড়তে শুর করেছে। ২০২৫এর জানুয়ারিতে এর সংখ্যা ৩৯টি ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর তথ্যানুযায়ী এর সংখ্যা ৬৭ টি। বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, চলতি বছরের গত দুই মাসে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে কমপক্ষে ১০৭ জন। যা গত বছরের যেকোন মাসের চেয়ে বেশি। যা জাতির জন্য বড় চিন্তার বিষয়।

২০২৬ সালে বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা, বিশেষ করে ধর্ষণ একটি উদ্বেগজনক সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, বিগত বছরের তুলনায় ধর্ষণের মামলা ২৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৮২৮ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের একটি পূর্বাভাস অনুযায়ী ব্রাজিলে প্রায় ৮১,৬০৩টি এবং ফ্রান্সে ৪১,৬৫২টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশে বর্তমান ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই হচ্ছে শিশু, যা দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ধর্ষণ বৃদ্ধির কারন

বর্তমান সময়ে ধর্ষণ বৃদ্ধির জন্য যে সকল কারনগুরো সামনে আসে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো:

ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব: বর্তমান বিশ্বে যতগুলো ধর্ম পরিলক্ষিত হয় তার সবকটিতেই ধর্ষনকে খারাপভাবে দেখা হয়ে এবং এই অপরাধে লিপ্ত নিষেধ করা হয়েছে। মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনে যিনার লিপ্ত হওয়া তো দূরের কথা যিনার নিকটবর্তী হতেই নিষেধ করা হইয়াছে। হিন্দু অন্যতম গ্রন্থ ঋগ্বেদ এর মধ্যে ঘোষিত সাতটি বড় অপরাধের মধ্যে অন্যতম হলো ধর্ষণ। এছাড়া সকল ধর্মেই এটাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সমাজে ধর্মীয় অনুশাসনের ছিটেফোঁটাও নেই। ধর্মকে আমরা উপেক্ষা করেই যাইতেছি। এজন্য ধর্ষনসহ সকল ধরনের অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে।

ধর্ষকদের প্রাপ্য শাস্তি না হওয়া: আমরা দেখতে পাই যে অধিকাংশ ধর্ষক নিজের ক্ষমতা এবং টাকার গুনে তার প্রাপ্য শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যায়। অথচ একজন ধর্ষকের শাস্তি হওয়া দরকার ছিল কঠিন থেকে কঠিনতর । যখন সে প্রাপ্য শাস্তি থেকে বেঁচে যায় তখন সে আবার ধর্ষণের সাথে জড়িত হয় এবং তাকে দেখে আরও অনেকে এই কাজে লিপ্ত হয়।

পর্দা প্রথার দূরাবস্থা: বর্তমান সময়ে ধর্ষণ এর মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারন হলো পর্দার বিধানকে উপেক্ষা করে নারী-পুরুষের বেপরোয়া চলাফেরা। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি থেকে শুরু করে কাজ, পাঠ, মাঠসহ সকল জায়গা যেন বেপর্দা ভাবে চলাফেরার প্রতিযোগিতা চলছে। নারীরা নিজেদের বডি স্ট্রাকচার পর পুরুষের সামনে প্রকাশ করাকে আধুনিকতা হিসাবে যেন গ্রহন করে নিছে। আর বখাটে ছেলেরা যখন তাদেরকে এই অবস্থায় দেখে তখন তাদের মাথায় নানা ধরনের অশ্লীল চিন্তা-চেতনার উদ্ভব ঘটে। আর তখনই তখনই ধর্ষণের মতো অপকর্মে লিপ্ত হয়।

পর্নোগ্রাফির অবাদ বিচরন: বর্তমানে আমরা অনলাইন কিংবা অফলাইন যেই দিকেই তাকাই না কেন যেন সমাজটা পর্নোগ্রাফিতে ঢুবে রয়েছে। নাটক, সিনেমাগুলো যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী সংলাপ এবং দৃশ্যে ভরপুর। অধিকাংশ নাটক সিনেমাতে নারীকে উপস্থাপন করা হয় ভোগের পন্য হিসাবে। দেখানে হয় কিভাবে একজন পুরুষ একজন নারীকে ধর্ষণ করে। এছাড়া রাস্তায় রাস্তায় দেখা যায় কতশত অশ্লীল ব্যানার আর পোষ্টার। বড় বড় বিলবোর্ড গুলোতে এ্যাডের নাম করে উপস্থাপন করা হয়েছে নারীর অর্ধ-উলঙ্গ দেহ। যা দেখতে দেখতে পুরুষদের মনে নানা ধরনের অশ্লীল চিন্তা চেতনার উদ্ভব ঘটে এবং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মানসিকতা। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ভালো – খারাপ বিচার করার যোগ্যতা। যার কারনে ধর্ষন তুমুল গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ধর্ষণের প্রভাব

ধর্ষণ এমনই একটি মারাত্মক ব্যাধি যা পুরো জাতিকে ধ্বংসের করার জন্য যথেষ্ট। যখন একজন নারী ধর্ষিত হয় তখন শুধু সে এর ভুক্তভোগী হয় না, ভুক্তভোগী হয় পুরো পরিবার, পুরু জাতি। কারন, একজন নারীই (মা) হয়ে থাকে একটা সুস্থ জাতি তৈরির কারিগর। কিন্তু যখন কোন নারী ধর্ষিত হয় তখন বাধাপ্রাপ্ত হয় তার ভবিষ্যৎ পথ চলা। থেমে যায় তার স্বাভাবিক পথচলা। এছাড়া যখন অতিরিক্ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে তখন সকল নারী সমাজের মনের মধ্যে একটা ভয় বিরাজ করে। অনেক সময় তারা ঘর থেকে বাহির হতেই ভয় পায়। এজন্য ধর্ষণ নামাক মহামারি কে প্রতিরোধ করা অতিব জরুরী।

ধর্ষন প্রতিরোধের উপায়

ধর্ষন প্রতিরোধে নিচের কার্যকরী পদক্ষেপ গুলোর বাস্তবায়ন করা যেতে পারেঃ

ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি : একজন মানুষের চরিত্র গঠনে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর প্রত্যেক ধর্মেই ধর্ষনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ কাজে জড়িত না হতে বারংবার নিষেধ করা হয়েছে। এজন্য ধর্ষনসহ সকল খারাপ কাজ প্রতিরোধ করতে সমাজে বা রাষ্ট্রে ধর্মীয় আইন-কানুন, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রচলন করতে হবে। আর এজন্য রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার থেকে শুরু করে প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলে দেখা যাবে ধর্ষন অনেকাংশে কমে যাবে।

ধর্ষকদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা: বাংলাদেশের আইনে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড। নারী ও শিশু নির্যাতন আইন-২০০০ অনুযায়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিন্তু ২০২০ সালে সেই আইন সংশোধন করে যাবজ্জীবন এর পরিবর্তন ধর্ষণ এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। উক্ত আইনের (৯) নং ধরার (১) নং উপধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন। (৩) নং উপধারায় বলা হয়েছে যে, যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হইলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।(৪) নং উপধারার (খ) অংশে বলা হয়েছে যে, যদি কেউ ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে বাংলাদেশে এর কোন বাস্তবায়ন নেই। আমরা নিয়মিত ধর্ষণের খবর দেখি কিন্তু কখনো ধর্ষকের যথাযথ শাস্তির খবর শোনা হয় না। এজন্য ধর্ষন দিন দিন বৃদ্ধি পেতেই চলছে। সুতরাং , ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে ধর্ষকদের যথাযথ শাস্তির ব্যাবস্থা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পর্দার বিধান বাস্তবায়ন: ধর্ষন প্রতিরোধ করতে নারী পুরুষ উভয়ের মধ্যে পর্দার বিধান বাস্তবায়ন করাও একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি থেকে শুরু করে সমাজ এবং রাষ্ট্রের সকল জায়গায় পর্দা প্রথার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। যখন পর্দাহীনতাকে রুখতে পারা যাবে তখন ধর্ষণ নামক মহামারীকেও রুখা যাবে।

অনলাইন প্লাটফর্ম এবং মিডিয়াগুলির তদারকি করা: বর্তমান সমাজ অবক্ষয়ের পেছনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেছে অনলাইন মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সকল সাইটেই আজ পর্নোগ্রাফিতে ভরপুর। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ এর (২) নং ধারার (গ) উপধারায় পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, (১) যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোন অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যাহা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোন উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যাহার কোন শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই; (২) যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অশ্লীল বই, সাময়িকী, ভাস্কর্য, কল্পমূর্তি, মূর্তি, কাটুর্ন বা লিফলেট; পর্নোগ্রাফির অন্তর্ভুক্ত হবে। উক্ত আইনের (৪) নং ধারায় বলা হয়েছে যে, পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, বহন, সরবরাহ, ক্রয়, বিক্রয়, ধারণ বা প্রদর্শন করা যাইবে না। এর শাস্তি সম্পর্কে উক্ত আইনের (৮) নং ধারার (১) নং উপধারায় বলা হয়েছে যে,পর্নোগ্রাফি তৈরি বা জোরপূর্বক অংশগ্রহণ করালে – সর্বোচ্চ ৭ বছর জেল ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে। (২) নং উপধারায় বলা হয়েছে, পর্নোগ্রাফি দিয়ে মানহানি বা মানসিক নির্যাতন করলে – সর্বোচ্চ ৫ বছর জেল ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা। (৩) নং উপধারায় বলা হয়েছে, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সরবরাহ করলে – সর্বোচ্চ ৫ বছর জেল ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা। (৪) নং উপধারায় বলা হয়েছে যে, পর্নোগ্রাফি প্রদর্শনের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে – সর্বোচ্চ ২ বছর জেল ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা। (৫) নং উপধারায় বলা হয়েছে, বিক্রয়, প্রচার, সংরক্ষণ বা বিজ্ঞাপন করলে – সর্বোচ্চ ২ বছর জেল ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা। (৭) নং উপধারায় বলা হয়েছে যে , পর্নোগ্রাফিতে সহযোগীদেরও একই শাস্তি প্রযোজ্য। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হচ্ছে না। এজন্য ফলসরূপ পর্নোগ্রাফি দিন দিন বাড়তেই চলছে। যার কারনে পুরুষ সমাজের মানসিক বিকৃতি ঘটছে এবং ধর্ষন বৃদ্ধি পাচ্ছে।এজন্য পর্নোগ্রাফি আইনের যথাযথ বাস্তববায়ন অতিব জরুরী।

সর্বোপরি প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন থাকতে হবে এবং নিজেকে পরিবর্তন হতে হবে। রাস্তা ঘাটে চলাফেরা করার সময় নারী পুরুষ উভয়কে শালীনতা বজায় রাখতে হবে । তাহলে দেখা যাবে যে, ধর্ষণ শব্দটা এমনভাবে হারিয়ে যাবে, যেভাবে হারিয়ে যায় গ্যাস ভর্তি একটি বেলুন।

লেখক : শিক্ষার্থী: আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *