চৌধুরী রুহাশ
আঙ্গুলে আঙ্গুলে সঙ্গম,
শব্দগুলো ডুব দেয় তোমার মুঠোয়,
ডানা মেলে ঘুম খুঁজে চোখের চাদরে।
রাত হয়ে উঁকি দিতে ইচ্ছে করে
তোমার জানালায়।
মৃদু বাতাসে ভেসে আসে
অচেনা এক নিশ্বাসের গন্ধ,
মনে হয়—
তুমি ঠিক কাছেই আছো,
নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছো
আমার অনুচ্চারিত বাক্যের পাশে।
চাঁদের আলোয় ভেজা আঙিনায়
তোমার ছায়া পড়লে
আমার ভেতরের নীরবতাগুলো
হঠাৎ কথা বলতে শেখে।
শব্দেরা তখন লাজুক পাখির মতো
ডানা ঝাপটে উড়ে যায়
তোমার নামের দিকে।
তোমার চোখের গভীরতায়
আমি কখন যে ডুবে যাই—
টের পাই না।
শুধু দেখি,
একটা দীর্ঘ নদী
আমার বুকের ভেতর দিয়ে বয়ে যায়,
যার দুই তীরে
তোমার স্মৃতির সবুজ ঘাস।
কখনো মনে হয়
তোমার হাসিটা
শীতের সকালের রোদ—
ছুঁয়ে দিলে উষ্ণ লাগে,
তবু পুরোটা ধরা যায় না।
তোমার নীরবতারও
একটা ভাষা আছে,
আমি সেই ভাষা শিখে নিতে চাই
ধীরে ধীরে,
যেমন কেউ শিখে নেয়
বৃষ্টির শব্দে লুকানো গান।
আর যদি কোনো রাত
অতল অন্ধকারে ডুবে যায়,
আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবো
তোমার জানালার নীচে—
শুধু এই আশায়,
তুমি একবার ডাকবে
আমার নাম ধরে।
তখন
আঙ্গুলে আঙ্গুল রেখে
সব নীরবতা ভেঙে যাবে,
আর আমাদের মাঝখানে
জেগে উঠবে
একটা দীর্ঘ, উজ্জ্বল
প্রেমাঙ্গম।





















