চৌধুরী রুহাশ
কোন এক দিনে
কিংবা রাতে
অথবা কোন আযানের ওয়াক্তে
নতুবা নিরব শীতল সময়ে
মৃত্যুর দূত এসে ঠুস করে নিয়ে যাবে
আমার খাঁচায় বড় হওয়া পাখিটারে।
তারপর
খাঁচাটা পড়ে থাকবে—
জং ধরা শিকের ফাঁকে
আটকে থাকবে কিছু পুরোনো শ্বাস,
অপ্রকাশিত কষ্ট,
আর অকারণে জমে থাকা কিছু অভিমান।
ঘরের কোণায়
ধুলোর সাথে মিশে যাবে আমার হাসি,
দেয়ালের ফাটলে লুকিয়ে থাকবে
অসংখ্য না বলা গল্প,
যেগুলো বলার সময় পাইনি—
অথবা সাহস হয়নি।
আলমারির ভেতর
ভাঁজ করে রাখা কাপড়গুলো
একদিন গন্ধ হারাবে,
তবুও কোথাও না কোথাও
লেগে থাকবে আমার স্পর্শ—
অদৃশ্য, কিন্তু জেদি।
মোবাইলের গ্যালারিতে
হঠাৎ করে চোখে পড়বে
একটা অচেনা দিনের ছবি—
হাসছিলাম, অথচ জানতাম না
হাসিটাও একদিন ইতিহাস হবে।
কেউ হয়তো খুব মনে রাখবে,
কেউ ভুলে যাবে অচিরেই,
কারও জীবনে আমি থাকবো শুধু একটা নাম,
কারও কাছে—একটা অভ্যাস,
আর কারও কাছে—
অসমাপ্ত একটা বাক্য।
জানালার পাশে বসা বিকেলগুলো
আর ফিরে আসবে না,
চায়ের কাপে ভেসে থাকা
নিস্তব্ধতার সঙ্গীটাও
অন্য কারও হয়ে যাবে হয়তো।
কিন্তু কোথাও—
কোন অজানা বিস্তারে
আমি থাকবো,
খাঁচা ছাড়া এক পাখির মতো,
প্রথমবারের মতো
নিজেকে চিনবো নতুন করে।
হয়তো বুঝবো—
এতদিন যেটাকে জীবন ভেবেছি
সেটা ছিলো শুধু প্রস্তুতি,
একটা দীর্ঘ অপেক্ষা,
একটা নীরব যাত্রার আগে।
আর যখন কেউ
রাতের গভীরে
হঠাৎ আমার কথা ভেবে থমকে যাবে—
আমি হয়তো তখন
ওর পাশেই থাকবো,
নিঃশব্দে, অদৃশ্য হয়ে,
একটু হাওয়া হয়ে
ছুঁয়ে দেবো তার একাকিত্ব।
মৃত্যু তখন দাঁড়িয়ে থাকবে
খুব কাছাকাছি—
যেনো পুরোনো কোনো পরিচিত,
যাকে বহুদিন এড়িয়ে গেছি।
আমি তাকাবো তার দিকে,
সে তাকাবে আমার দিকে,
কোনো প্রশ্ন থাকবে না,
কোনো উত্তরও না।
শুধু এক নরম সমঝোতা—
যে যাত্রা শুরু হয়েছিল খাঁচার ভেতর,
সে শেষ হবে
অজানা আকাশের দরজায়।
আমি ধীরে বলবো—
যেতে হবে নাকি?
তখন আর কিছু থাকবে না—
না ভয়, না শোক, না স্মৃতি।
শুধু এক গভীর, শান্ত শূন্যতা,
যেখানে আমি আর আমি থাকবো না—
থাকবে শুধু উড়ে যাওয়া।





















