পুরোনো দিন বিদায় জানিয়ে নতুন দিনের প্রত্যাশা

সাবিহা তারান্নুম মিম : মাটি যেমন বৃক্ষের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত, তেমনি পহেলা বৈশাখও বাঙালির শিকড়ের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত। পুরোনো বর্ষকে বিদায় জানিয়ে নতুন বর্ষ বরণের মধ্য দিয়ে বাঙালির জীবনে আশার আলো ও সমৃদ্ধির বার্তা আনে পহেলা বৈশাখ।

শহরের আধুনিকতা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সহজাত অবস্থানে নববর্ষ উদযাপন বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ধারার প্রতীক। পরিবর্তনশীল প্রকৃতিতে নতুন বছরের আগমনীর উদযাপন বাঙালির নতুন উদ্যমে চলার পথকে ত্বরান্বিত করে। এই নববর্ষের কেন্দ্রবিন্দু বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত ও সমবেত অংশগ্রহণে একত্রিত হওয়া।

পুরোনো গ্লানি ভুলে নতুন বছরের আগামী দিনের প্রত্যাশা শুধু পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ নয় বরং সামগ্রিক লক্ষ্য পূরণে বাস্তবায়িত পদক্ষেপ। দেশের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি বছরকে অর্থবহ করে কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন আন্তরিক নব্য সূচনা। বৈশ্বিক বা অভ্যন্তরীণ সংঘাত সবকিছু উপেক্ষা করে সকল বাঙালির একযোগে নববর্ষ পালন ঐক্যের নিদর্শনস্বরূপ। চিরাচরিত ধারায় নববর্ষ উদযাপনের সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ডিজিটাল পদ্ধতিতেও উদযাপন বিশ্ব মঞ্চে এক সম্প্রীতির উদাহরণ। বাঙালির প্রাণের প্রত্যাশা হলো পুরোনো হানাহানি বিদ্বেষের হিসাব চুকিয়ে, হিসাবের খাতায় নতুন পাতার উন্মোচন। ঝরে পড়া গাছে গজে উঠা নতুন লতা যেমন ফিরিয়ে দেয় প্রাণ; তেমনি নববর্ষের মাধ্যমে নব্য সূচনা আপামর সকলের প্রাণে ফিরিয়ে দিক সতেজতা।

লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *