অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকারে অতিষ্ঠ বুড়িচং-কুমিল্লা রোডের যাত্রীরা‎

মো.রিমেল : ‎কুমিল্লার জেলার সাথে বুড়িচং এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে এম এ গণি রোড। এই রোডটি মিরপুর হয়ে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে মিলিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি এই দুই উপজেলার অর্থনীতির অন্যতম নিয়ামক। বুড়িচং উপজেলার জন্য প্রধান ও একমাত্র সহজ যাতায়াতের মাধ্যম এটি।প্রতিদিন এই রোডে যাতায়াত করে থাকে চাকুরীজীবী,বিশ্ববিদ্যালয়,কলেজ শিক্ষার্থী,ব্যবসায়ী থেকে শুরু সাধারণ লোকেরা।ছাড়া ও সিএনজি,অটোরিকশা,বাস সহ নানা যানবাহন চলাচল করে এই রোডে।তাই চালকদের পরিবার ও ভরনপোষণের জন্য এই রোডের উপর নির্ভরশীল।এম এ গনি রোডের কুমিল্লা থেকে বুড়িচং অংশের দৈঘ্য ১২ কিলোমিটার।

‎২০২৪ সালে গোমতি নদীর তীর ভেঙ্গে যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে তার তালিকায় ছিল এই বুড়িচং-কুমিল্লা অংশটুকু। যা দীর্ঘ দিন জনগনকে ভোগান্তির একটি মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছিল। ২০২৫ সালে এই রোডটি নতুন করে সংস্কার করার জন্য বাজেট আসে। যার কাজ শেষ হয় ২০২৬ সালের শুরুর দিকে এসে। কাজ কতটুকু সঠিক ভাবে হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছে। পাশাপাশি ভোগান্তি বন্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত শেষ হয়ে নি। কেবল ভোগান্তির ধরণ বদলেছে।



‎বন্যার পর ভোগান্তির সূত্র ছিল ভাঙ্গা রাস্তা। তবে সংস্কারের পরে এখন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে রাস্তার স্পিড ব্রেকার। বাংলাদেশের গাড়ির গতি নিয়ত্রণ করার একটি সহজ ও প্রচলিত পদ্ধতি হলো স্পিড ব্রেকার। সড়ক ও জনপদ বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত ২ কিলোমিটার পর পর স্পিড ব্রেকার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে, কুমিল্লা শাসনগাছা থেকে পালপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত মাত্র ৩.২ কিলোমিটারে ১৩ টি স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে নতুন ভাবে সংস্কার করা রাস্তায় তা যেন মানা হয়ে নি। কুমিল্লা-বুড়িচং পর্যন্ত ১২ কিলোমটারের অন্তুভুক্ত কুমিল্লা শাসনগাছা থেকে পালপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত মাত্র ৩.২ কিলোমিটারে ১৩ টি স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়েছে।তাড়াছা নতুন রাস্তা বিশ্লেষণ করলে প্রতি ২৪৬ মিটারে একটি করে স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়েছে।নতুন করে সংযুক্ত করা এসব স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়েছে সঠিক উদ্দেশ্য ছাড়া।কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ছাড়াই আরাইওরা থেকে একটু সামনের বাকে এক সঙ্গে ৩-৪ মিটার দূরত্বে ৩ টি স্পিড ব্রেকার বসানো হয়েছে।এমন কি পাল পাড়া ব্রিজে ওঠার সময় একটি ব্রেকার দেওয়া হয়েছে নতুন করে।যার কারণে সিএনজির মতো যানবাহন গুলো ব্রিজে উঠার সময় ঢালু হওয়ার কারণে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হচ্ছে। আগে এসব  স্থানে কোনো স্পিড ব্রেকার ছিল না।

‎তবে রাস্তা সংস্কারের পূর্বে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মসজিদ সহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে স্পিড ব্রেকার ছিল।যার সংখ্যাটা ছিল সীমার মধ্যে।তবে এখন মাত্রা অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকারে চালক থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীরা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।প্রতি ২৪৬ মিটার অংশে থামতে গিয়ে গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে এবং গন্ধব্যে যেতে সময় বেশি লাগছে।আবার অপ্রয়োজনীয় স্পিড ব্রেকারের বিষয়টি চালকরা মনে রাখতে অসুবিধা হচ্ছে ফলে মাঝে মধ্যে গাড়ি চালাতে গিয়ে এসব স্থানে বড় ঝাকুনি অনুভূত হয়।রোগী থেকে শুরু করে শিশুদের মধ্যে আহত হওয়ার একটা সম্ভবনা থেকে যায়।তাছাড়া মাঝে মধ্যে সিএনজি সহ গাড়িগুলো ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

‎তাই খুব দ্রুত অপ্রয়োজনীয় জায়গার স্পিড ব্রেকার গুলো তুলে ফেলা প্রয়োজন।কেবল স্পিড ব্রেকার বেশি বেশি বসালে দূর্ঘটনা কমবে সেটা সঠিক নয়।অতিরিক্ত কোনো কিছু ভালো নয়।তাই উল্টো দুঘটনা বাড়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে।দূ্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের সচেতনতা,রাস্তায় ত্রুটিপূর্ণ বাক সহ আরো নানা কারণ দায়ী।তাই দুর্ঘটনার নামে যাত্রীদের ও চালকের হয়রানি বন্ধ করা হউক।

‎যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে ফেসবুক সহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরোপ প্রতিক্রিয়া দেখালে ও প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয় নি।তাই যারা এই রোডে নিয়মিত যাতায়াত করছেন তাদের জন্য বিষয়টি বিরক্তির ও কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।আগের তুলনায় কুমিল্লা শহরে যেতে ও তুলনামূলক সময় বেশি লাগছে।তাই অতি দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।



‎লেখক: শিক্ষার্থী,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *