মো. সাইদুল ইসলাম : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হয়েছে এক বৈচিত্র্যময় প্রেজেন্টেশন। সেখানে না ছিল কোনো প্রজেক্টর বা স্লাইডের কারসাজি, আর না ছিল প্রথাগত আনুষ্ঠানিক পোশাক। বরং প্রতিটি অংশগ্রহণকারী ইংরেজি সাহিত্যের একেকটি কালজয়ী চরিত্র হয়ে ধরা দিয়েছিলেন। ফলে পুরো পরিবেশটি যেন এক জীবন্ত “ফরেস্ট অব আর্ডেন”-এ পরিণত হয়েছিল। সেখানে দেখা মিলেছে অ্যান্টোনিও, শাইলক, ওথেলো-সহ ডক্টর ফাউস্টাস কিংবা রাজা ইডিপাসের মতো বিখ্যাত চরিত্রদের। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল চোখে পড়ার মতো উৎসাহ; কেউ আগ্রহ নিয়ে চরিত্রদের সঙ্গে কথা বলছেন, আবার কেউ ছবিবন্দি করে স্মৃতিতে ধরে রাখছেন।
ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিন বিনতে এনামের নেতৃত্বে গতকাল প্রেজেন্টেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশগ্রহণ করে ইংরেজি বিভাগের ৬০ জন শিক্ষার্থীর মোট ১৫টি দল। প্রতিটি দল ইংরেজি সাহিত্যের বিভিন্ন নাটক থেকে বিভিন্ন অংশ উপস্থাপন করে। উপস্থাপনাটি ক্লাস শেষে বিকেল চারটায় শুরু হয়ে শেষ হয় সন্ধ্যার ঠিক পূর্বমুহূর্তে। এ সময় “ফরেস্ট অব আর্ডেন”-এ সিনিয়র ও জুনিয়রসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
প্রেজেন্টেশনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী জাফরিন তাসনিম বলেছেন, ব্যতিক্রমধর্মী এমন উপস্থাপনা আসলে খুবই ভালো লাগছে। উপস্থাপনা নিয়ে তেমন ভীতি-জড়তা কাজ করছে না, সবাই উপভোগ করছি। আমাদের বইয়ের এই চরিত্রগুলোকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে প্রচুর অনুশীলন এবং দলগত সমন্বয় করতে হয়েছে। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াছিন ইবনে ফিরোজ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “স্বল্প সময়েই ইংরেজি সাহিত্যের নানা চরিত্র ও নাটক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। আসলে ক্লাসগুলো এমন আনন্দঘন আর বহুমাত্রিক হলে সত্যিই উপভোগ্য লাগে, মনোযোগ ফেরানো যায় না।”
উপস্থাপনা শেষে ব্যাচ প্রতিনিধি মোঃ নাঈম খান অপু বলেন, “সবচেয়ে সুন্দর দিন কাটালাম; বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিনেও হয়তো মনে পড়বে। সবার মধ্যে এত আন্তরিকতা দেখে মনটা ভরে গেল। এভাবেই অটুট থাকুক আমাদের বন্ধন।”
দিনটা বিশেষ হওয়ার একটি দিক উল্লেখ করে শিক্ষার্থী রিফাতুল ইসলাম পিকন জানান, “মঞ্চসজ্জা থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রতিটি কাজে আমাদের ব্যাচের সবাই যার যার জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করেছে। এভাবে একসাথে কিছু করলে সত্যিই ভালো লাগে।”
এ প্রসঙ্গে শিক্ষিকা তারিন বিনতে এনাম জানান, “শিক্ষার্থীদের ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে চরিত্রভিত্তিক নাট্য-উপস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই মঞ্চসজ্জা ও পোশাক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তুলেছে। কোর্স শিক্ষক হিসেবে কেবল দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সর্বোপরি, ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান ড. এম. এম. শরীফুল করিম স্যারকে ফরেস্ট অব আর্ডেনে শিক্ষার্থীদের নাট্য মঞ্চায়নসহ উপস্থাপনার সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এমন চর্চা অব্যাহত থাকুক।”
লেখক : শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।





















