ইয়াছিন ইবনে ফিরোজ
সময় বড় বিচিত্র,কখনও সে জীবনের বুকে ভালোবাসার নরম মায়া জড়িয়ে দেয়, আবার কখনও নিঃশব্দে কেড়ে নেয় প্রিয় মুখগুলো। মহাকালের পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে মানুষ হয় কেবল এক সাক্ষী।
ফরহাদ, হৃদয় ও হিমেল এই তিনজনের বন্ধুত্ব যেন ছিল জাফলংয়ের স্বচ্ছ জলের মতোই নির্মল। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি প্রভাতে তাদের হাসি, আড্ডা আর নির্ভার স্বপ্নেরা সুর বাঁধত পিয়াইন নদীর কলতানে। তারুণ্যের রোদে তারা হেঁটেছিল অগণিত পথে, খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে, ক্যাম্পাসের গাছতলায়। কিন্তু চাকরি জীবনে পা রাখতেই ছিটকে গেল পৃথিবীর তিনটি ভিন্ন প্রান্তে। ব্যস্ততা, দায়বদ্ধতা, সংসারের গণ্ডি সব মিলিয়ে যোগাযোগের সেতুটি ধীরে ধীরে ভেঙে গিয়েছিল। চল্লিশটি বছর পেরিয়ে গেছে; দীর্ঘ এই ব্যবধানে একে অপরের সঙ্গে দেখা হয়নি তবুও কিসমত নামের অদৃশ্য কোনো সুতো কি সত্যিই ছিঁড়ে যায়? সেদিন সিলেটের আকাশে পড়ন্ত বিকেল। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, ‘প্রকৃতি কন্যা’ জাফলং-এর জিরো পয়েন্ট। পিয়াইন নদীর স্ফটিক স্বচ্ছ জলে সূর্যের শেষ কিরণ যেন সোনার সুতোয় বোনা এক স্বপ্নের মতো ঝলমল করছে। দূরে মেঘালয়ের উঁচু পাহাড়গুলো, যা আসলে সুদূর শিলং মালভূমির অংশ, ঢেকে আছে তুলোর মতো সাদা মেঘে, মাঝে মাঝে ফাঁক দিয়ে উঁকি দেয় কালো ছায়া। সেই পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে আসা ডাউকি নদী । নদীর পাথরের স্তূপের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে ঠান্ডা, ঝিরঝিরে জলধারা। এই পাথরগুলো (নুড়ি ও গণ্ডশিলা) কেবল সৌন্দর্যের উৎস নয়, এই অঞ্চলের মানুষের বহু বছরের জীবন-জীবিকার মূল ভিত্তি। ঠিক সেই দৃশ্যের মাঝেই ফরহাদ হোসেনের চোখে পড়ল এক পরিচিত মুখ, অথচ অবিশ্বাস্য ভাবে অচেনা। প্রথমে মনে হয় ভুল করছে, কিন্তু চোখ তো কখনও মিথ্যা বলে না। নৌকা থেকে নামার পর তিনি থমকে দাঁড়ালেন। লোকটা কাছে আসতেই ফরহাদের বুকের ভেতর পুরোনো দিনের এক প্রলয় বয়ে গেল। আমি ভুল না করলে আপনি কি হৃদয়? অপর জনের মুখে অবাক হাসি, হ্যাঁ। আর যদি আমিও ভুল না করি, তুই তো ফরহাদ? সময় আর দূরত্বের চল্লিশ বছরের ব্যবধান এক মুহূর্তে গলে গেল। যেন দুটি পাথরের নুড়ি বহু বছর পর একই স্রোতে এসে মিশল। দুজন দুজনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। বয়সের রেখা মুখে স্পষ্ট, কিন্তু তাদের বন্ধুত্ব যেন এখনো সেই তরুণ, উচ্ছ্বসিত, জীবন্ত। হৃদয় হেসে বলল, তুই কোথায় উঠেছিস?ফরহাদ উত্তর দিল, কোথাও না রে, ভাবছিলাম ঘুরে চলে যাব। হৃদয়ের কণ্ঠ দৃঢ় হলো, না, চল আমাদের সাথেই থাকবি। সেই সন্ধ্যায় ফরহাদ তার স্ত্রী ফারিহা, মেয়ে ফাহিমা ও ছেলে রিয়াদকে নিয়ে হৃদয়ের বাড়িতে উঠল। বহু বছর পর বন্ধুর ঘরে ফিরে ফরহাদের মনে হচ্ছিল,এই ঘ্রাণ, এই হাসি, এই কণ্ঠস্বর, যেন কোথাও শোনা, কোথাও দেখা,এটি কেবল এক বন্ধুর বাড়িতে ফেরা নয়, যেন বহুদিন ভুলে থাকা এক জীবনের পুনর্জন্ম ঘটছে ধীরে ধীরে।
রাত নামল। সিলেটের আকাশ নীলাভ আলোয় ভরে উঠেছে, পাহাড়ের মাথায় ঝুলে আছে পূর্ণচাঁদ, পবিত্র প্রদীপের মতো। পিয়াইন নদীর স্রোতের মৃদু গুঞ্জন আর দূরের মসজিদের আজানের সুর ভেসে এলো হালকা বাতাসে। দুই বন্ধু বের হলো হাঁটতে,যেমনটি তারা করত তাদের প্রাণবন্ত তারুণ্যে, নিরব অথচ হাজার অজানা কথায় ভরা। চাঁদ-আলো আর মেঘের খেলা চলছে আকাশে, নিচে পাহাড়ি শিশিরে ভিজে যাচ্ছে পথ। হৃদয় হেসে জিজ্ঞেস করল, সিলেটে এলে কবে? ফরহাদ হালকা হেসে উত্তর দিল, গতকাল রাত এগারোটার দিকে কুমিল্লা থেকে রওনা হয়েছিলাম। ভোরে শাহজালাল দরগায় নামাজ পড়েছি। তারপর ঘুরেছি একে একে সব জায়গা। মাঝপথে শ্রীপুর চা-বাগানে থেমেছিলাম,সেখানে মেঘালয়ের পাহাড়গুলো এত কাছে মনে হচ্ছিল, যেন তারা আমারই পুরোনো বন্ধুর মতো হাতছানি দিচ্ছে। ইচ্ছে হচ্ছিল, আল্লাহ যদি আমার শরীরটাকে ঐ পাহাড়ের মতো বিশাল করে দিতেন, আমি তাদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরতাম। জানিস হৃদয়, কখনও এখানে আসিনি, তবু মনে হচ্ছিল এই পাহাড়, এই বাতাস, এই ঝর্ণা সব আমার আত্মীয়। এই অঞ্চলের প্রতি এক প্রবল আকর্ষণ রয়েছে, যেন এর পাললিক শিলার প্রতি আমার আত্মার টান। তবু দেখ, আপন হয়েও একে নিজের করা যায় না। না পাওয়াটাই হয়তো আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম দয়া। হৃদয় অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, না পাওয়াটাই দয়া মানে? ফরহাদ কিছুক্ষণ চুপ করে নদীর জলে তাকিয়ে রইল। চাঁদের আলোয় পিয়াইন নদীর জল কাঁচের মতো ঝলমল করছে। নিজের কাছে যা সত্যিই সুন্দর, নিজের চেয়েও অধিক প্রিয়, তা কখনো পুরোপুরি পাওয়া যায় না, হৃদয়। কারণ, পাওয়া মানেই তার ক্ষয়। যেমন করে জাফলংয়ের নুড়ি পাথরগুলো নদীর গভীর স্রোতে ক্ষয় হতে হতে মসৃণ হয়, তেমনি পাওয়া জিনিসও মূল্য হারায়। দূর থেকে দেখা, না পাওয়ার বেদনাতেই সৌন্দর্য চিরন্তন বাঁচে। নীরবতা নেমে এলো। শুধু পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা বাতাসের মৃদু গুঞ্জন। দুজন হাঁটতে লাগল ধীরে ধীরে, যেন প্রতিটি পদক্ষেপে ফিরে যাচ্ছে তারুণ্যের কোনো সন্ধ্যায়।
এশার নামাজ শেষে যখন তারা ফিরছিল, ফরহাদ হঠাৎ নদীর ওপারের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে বলল, দেখলি না হৃদয়, ঐ পাহাড়ের বুকের ভেতরে আলো জ্বলছে? হৃদয় বলল, হ্যাঁ দেখেছি, তাতে কী?
ফরহাদ মৃদু হেসে বলল, তুই বুঝিস নাই বন্ধু, এই আলো মানে কেউ না কেউ সেখানে আছে। পাহাড়, এই অরণ্য, এই ঝর্ণা সব দখল হয়ে গেছে। আমি যত ভাবি এগুলো আমার, ততই বুঝি কিছুই আমার নয়। দেখিস না, যাকে নিজের ভাবি, সেও একদিন অন্যের হয়ে যায়। যেমন প্রিয় মানুষকে অন্য কারো হয়ে যেতে দেখলে বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে । বুকের বাঁ পাশে টান ধরে। সেই টানটা কেবল হারানো মানুষই বোঝে, হৃদয়। দূরের পাহাড়ে গাছের ফাঁক দিয়ে আলো ঝলমল করছে, যেন কোনো হারানো সুখ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। প্রিয় জিনিসগুলোকে সারাজীবন ভালোবাসা যায়, কিন্তু তাদের নিজের করে পাওয়ার বাসনা একসময় মরে যায়। রাতারগুল, জাফলং, সিলেটের চা-বাগান আমাকে টানে। কিন্তু এই মেঘালয়ের পাহাড় আমার মন, প্রাণ, আত্মা কেড়ে নিয়েছে। যেভাবে একদিন কেড়ে নিয়েছিল ফারিহা। চাঁদের আলোয় ফরহাদের মুখে এক অদ্ভুত বেদনার ছায়া নেমে এলো। জানিস, কেউ একজন বলেছিল, সে বলল নিচু স্বরে, বাংলাদেশে দুই রকম হতভাগা আছে এক যারা সিলেটে জন্মায়নি; দুই যারা সিলেট ভ্রমণ করেনি। আজ বুঝি কথাটা একেবারে সত্যি। এই পাহাড়ের মতোই একদিন ফারিহাও ছিল আমার কাছে সুন্দরী , অথচ ছোঁয়া যায় না।
তার কণ্ঠ কেঁপে উঠল। তুই না থাকলে হৃদয়, ও হয়তো আমাকে ছেড়ে চলে যেত। মনে আছে তুই বলেছিলি,আমাদের আগের প্রজন্মের মানুষগুলো শিক্ষিত ছিল না, তবু তিন চারজন স্ত্রীকে একসঙ্গে রাখতে পারত, কোনো অভিযোগ ছাড়াই। আর আমরা শিক্ষিত হয়েও একটা স্ত্রী সামলাতে পারি না। সেই কথাটা আজও কানে বাজে। ফরহাদ হালকা নিঃশ্বাস ফেলল। ফারিহা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করত, আমি করতাম চাকরি। আমাদের প্রেম ছিল সত্যি, নির্মল। বিয়ের পর মনে হয়েছিল জীবন পূর্ণ। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই যেন ওর ভেতরে অন্য এক মানুষ বাসা বাঁধল। সারাদিন কর্মস্থলে, রাতে ঘরে থেকেও আমার সঙ্গে থাকত না। ফোনের ওপাশে তামজিদের হাসি ভেসে আসত। আমি কিছু বললে রাগ করে বলত নিজে করো, নিজে খাও, আমি তোমার টাকায় চলি না। যে মেয়েটি একদিন আমার হাতে চায়ের কাপ তুলে দিয়ে বলত, তুমি না খেলে আমিও খাচ্ছি না, সেই চোখেই একদিন নিজেকে অচেনা মনে হয়েছিল। বাতাসে তখন কুয়াশা নেমেছে, দূরের ঝর্ণার শব্দ যেন তার কণ্ঠের কাঁপন ঢেকে দিচ্ছে। ফরহাদ বলল ধীরে, ভালোবাসা ততক্ষণ থাকে, যতক্ষণ না তাকে ‘অধিকার’ বলে ভুল করি। যেদিন ভালোবাসাকে নিজের সম্পত্তি ভাবি, সেদিনই সে চুপচাপ সরে যায়। এই পাহাড়গুলোর মতোই,চোখে ধরা পড়ে, হৃদয়ে জায়গা করে নেয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের করে পাওয়া হয় না। দুজনই চুপ করে রইল। চাঁদের আলোয় পাহাড়গুলো নরম কুয়াশায় ঢেকে গেছে, নদীর জলে ভেসে আসছে কোনো অচেনা বাঁশির সুর,যেন সেই সুরে মিশে আছে ভালোবাসা, হারানো সময়, আর এক জীবনের দীর্ঘশ্বাস।
ফরহাদ চুপ করে ছিল কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে বলল, আমি তোকে সব খুলে বলেছিলাম, হৃদয় । মনে আছে? সেদিন তুই তোর নানা-নানির গল্প বলেছিলি। কী আশ্চর্য মানুষ ছিলেন তাঁরা! বারো মেয়ে, তিন ছেলে তবুও ঘর ভরা ছিল শান্তিতে। তোর নানির হাতে সময় ছিল না নিজের জন্য, কিন্তু ছিল সবার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। তিনি মারা যাওয়ার পরও তোর নানা প্রতিদিন তাঁর কবরে গিয়ে চোখের পানি ফেলে দোয়া করতেন । এমন বন্ধন আজকাল কেবল গল্পেই পাওয়া যায়।ফরহাদ একটু থামল। আজ আমি নিজেও সাত ছেলে, চার মেয়ের বাবা। জীবন কত দীর্ঘ পথ দেখিয়েছে! ফারিহা দুইটি ছেলে আর তিনটি মেয়ে হওয়ার পর নিজের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিল। বলেছিল, দুজনের বেতনের অর্ধেকই যদি ড্রাইভার আর কাজের লোকের পেছনে যায়, তাহলে সংসারের মানে কী? বাইরের লোককে যে টাকা দিই সেই টাকা জমা রেখে আরো ভালো জীবন উপভোগ করতে পারি। সেই থেকে সংসারটাকে সে নিজের হাতে গড়ে তুলেছিল। একদিন কান্না করে বলেছিল,আমি ভুল করেছিলাম, ফরহাদ। ক্ষমা করে দিও। তখন বুঝেছিলাম, ভালোবাসা কখনো হারায় না শুধু সময়ের কাছে নতি স্বীকার করে। তারপর জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা, হিমেলের সঙ্গে কথা হয়েছে?
হৃদয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, হ্যাঁ, হয়েছে। ওর স্ত্রী চলে গেছে, দুই বাচ্চা রেখে। এরপর থেকে মেয়েদের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। আর বিয়েও করেনি।
নদীর ঢেউয়ের শব্দ যেন মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। ফরহাদ নরম কণ্ঠে বলল, সে যদি আজ আমার এই কথাগুলো শুনত, হয়তো এমনটা হতো না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, বেশি বেশি সন্তান নাও, এমন নারীকে বিয়ে করো যে বেশি সন্তান দিতে সক্ষম। শুধু উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নয়, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে জীবনের গভীর দর্শন, ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার, সম্পর্ককে সময়ের চেয়ে দীর্ঘ করার এক অলৌকিক শক্তি । সন্তানরাই ভালোবাসার বন্ধনকে সময়ের চেয়েও দীর্ঘ করে তোলে। তারা হাঁটছিল ধীরে ধীরে, আর ভোরের আলো ধরা দিচ্ছিল আকাশে। পূর্ব দিগন্তে সোনালি আভা উঠেছে, পাখিদের কুঞ্জন ভেসে আসছে চা-বাগানের দিক থেকে। কাছের মসজিদে ফজরের আজান শুরু হলো। আলোর সঙ্গে মিশে গেল সেই সুর মৃদু, পবিত্র, আর এক অজানা শান্তির ।হৃদয় ধীরে বলল, চল, মসজিদে যাই। তারা পাশাপাশি হাঁটল। ভোরের বাতাস ঠান্ডা, কিন্তু তাতে শান্তির ঘ্রাণ। মসজিদের পথ যেন সাদা কুয়াশার চাদরে মোড়া, আর প্রতিটি পদক্ষেপে জীবনের ভার হালকা হয়ে আসছে। ফরহাদ মনে মনে ভাবল,জীবন আসলে কত সরল! আমরা একে জটিল করে তুলি আমাদের চাওয়ায়, না পাওয়ায়, অহংকারে। আসলে সুখ লুকিয়ে থাকে ছোট ছোট মুহূর্তে,হারানো ভালোবাসার স্মৃতি, সন্তানের হাসি, বন্ধুর উষ্ণ কণ্ঠে। হৃদয় পাশে হাঁটতে হাঁটতে বলল, দেখ, ফরহাদ সব ব্যর্থতা, সব দুঃখ মিলেও তুচ্ছ মনে হয় এই মুহূর্তের তুলনায়। পাহাড়, নদী, ঝর্ণা সব যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে, জীবনের সৌন্দর্য সবসময় কাছেই ছিল। আমরা কেবল দূরে খুঁজেছি। ফরহাদ ধীরে হেসে উত্তর দিল, ঠিক বলেছিস। চার দশক কেটে গেছে, তবু বন্ধুত্ব ফিরে এসেছে। ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি, সে স্মৃতির ভেতরেই বেঁচে আছে। আজ মনে হয়, সময় আমাদের কিছু কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু তার বদলে দিয়েছে এক গভীর শান্তি।নদীর জলে তখন সূর্যের প্রথম রশ্মি পড়েছে। পাহাড়ের মাথায় ঝুলে থাকা কুয়াশা ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে। ঝর্ণার স্রোত যেন গাইছে জীবনের চিরন্তন গান। ফরহাদ হাত বাড়িয়ে হৃদয়ের হাত ধরল। চল, বন্ধু আজ আমরা শুধু হাঁটব, কথা বলব, এই পাহাড়, এই নদী, এই বাতাসের সঙ্গে মিশে যাব। আর কিছু চাই না। হৃদয় হাসল। ঠিক আছে। এই মুহূর্ত আমাদের। বাকি জীবন যেমন আসবে, তেমনই যাবে কিন্তু আজ, এই জাফলং, এই পিয়াইন নদীর নুড়ি পাথর আর সবুজ পাহাড় সবই আমাদের চিরন্তন বন্ধু। তাদের ছায়া নদীর জলে মিশে গেল। চাঁদের জায়গা নিল সূর্য, পাহাড়ের কুয়াশা সোনালি হয়ে উঠল। দূরের ঝর্ণার ধ্বনি যেন ফিসফিস করে বলল,হারানো বন্ধুত্ব ফিরে আসে, দূরে গেলেও ভালোবাসার মানুষ চিরকাল ভালোবাসে । সে বয়ে চলে, পিয়াইন নদীর মতো, অনন্তের দিকে।





















