মোঃ শরীফুল ইসলাম : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রতিনিয়ত সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে ঝগড়া-বিবাদ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে থাকে। বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সংঘর্ষ।
প্রতিদিন সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক খুললেই চোখে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষের দৃশ্য এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো গ্ৰাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। যার ফলে সাধারণ জনগণ বিভিন্ন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রায় সময় জমির পরিমাণ, জমির সীমানা, আধিপত্য বিস্তার, খেলাধুলা,অহেতুক কথাবার্তা অথবা ছোট খাটো ব্যাপারে ভুল বোঝাবুঝি মুহূর্তের মধ্যে বিশাল সংঘর্ষে জড়ায় গ্ৰামবাসী।
সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশু ও কিশোররা, যারা এসব দেখতে দেখতে বড় হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অসংখ্য মানুষ বসবাস করে এবং উচ্চশিক্ষিত মানুষ হওয়ার পরেও শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ নেই। যার ফলে গোষ্ঠী প্রথার কারণে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
স্থায়ী চাকরিজীবীর সংখ্যাও খুবই অপ্রতুল। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি মানুষের মধ্যে সহনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং সামান্য বিষয়কেও বড় সংঘর্ষের দিকে প্রতিনিয়ত ধাবিত করছে। ফলস্বরূপ অনেক শিশু স্কুল ছেড়ে চায়ের দোকানে, কেউ বাজারে, কেউ বা অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কাজে প্রতিনিয়ত যোগ দিচ্ছে । স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থী উপস্থিতি আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এখন প্রশ্ন হলো এই সংকটের সমাধান কোথায়? সংঘর্ষ নিরসনে করণীয় বা কি হতে পারে? এলাকার মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত ছিল। গ্ৰামবাসীর মধ্যে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় মগ্ন থাকা প্রয়োজন। গ্ৰামবাসীর চিন্তাধারা ও মন-মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটাতে পারলে প্রতিনিয়ত জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষত গ্ৰামের তরুণরা অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। রক্ত টগবগে থাকে। একজন অন্যজন কে কোন ভাবেই ছাড় দিতে চায় না।
এই উত্তেজিত হওয়ার স্বভাব দূর করার উপায় সংস্কৃতির অনুশীলন করা। গ্ৰামবাসীর মধ্যে দ্বন্দ্ব নির্মূলের জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। গ্ৰামের মধ্যে পারস্পরিক খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে এই সংকট কিছুটা নির্মূল করা সম্ভব। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরনের সংঘর্ষের নিরসন হোক। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সচেতনতা ছাড়া এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। সময় এসেছে লাঠির ভাষা নয়, যুক্তি ও শিক্ষার ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। প্রশাসনের উচিত এই জেলার মধ্যে নিয়মিত টহল দেওয়া। আইনের শাসন কঠোর ভাবে বাস্তবায়ন করা। সবশেষে বলা যায়—এই সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা এবং কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সংঘর্ষের নয়, শান্তি ও সৌহার্দ্যের জনপদে পরিণত করা সম্ভব।
লেখক : শিক্ষার্থী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ।





















