আফিয়া আলম : মানুষের প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি থাকা উন্নত নৈতিকতা, পরিপক্কতা এবং সুস্থ পরিবেশের প্রতীক। প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি,
অবলা জীবের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আমাদের চারপাশে অনেক চার পা যুক্ত পশু এবং প্রাণী দেখতে যায়। এগুলো আমাদের পরিবেশের অংশ। পরিবেশ এর অনুকূল অবস্থা বজায় রাখতে পরিবেশের অন্যান্য প্রাণীদের মতো এদের অবদানকে উপেক্ষা করা যায় না। অথচ আমরা দেখতে পাই এদেরকেই আমরা পরিবেশ এর জন্য অপ্রয়োজনীয় এবং বাড়তি ঝামেলা বলে মনে করি। এসব প্রাণীদের দেখলে নাক সিটকাই,ঘৃণা করি এবং দেখা মাত্রই দুচ্ছাই করি। কিন্তু এই প্রাণীগুলোই দিন এর পর দিন আমাদের উপকার করে যাচ্ছে। এসব প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে কুকুর,বিড়াল,শিয়াল,বেজি,গরু,ছাগল, ভেড়া,গুইসাপ, ইত্যাদি। আবার রয়েছে তেলাপোকা, টিকটিকি, পিঁপড়া ইত্যাদি যেকোনো ধরনের পোকামাকড়। কোনো কারণ ছাড়াই এদের মেরে ফেলা হয়। অবলা প্রাণীরা মুখে তাদের ভাবাবেগ প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু তাদেরও কষ্ট হয়, দুঃখ হয় আর মানুষের নির্যাতন তারাও সহ্য করে।
আমরা একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা দেখতে পাই একটি কুকুর পুকুরের মধ্যে বাঁচার জন্য ছটফট করছিলো এবং পুরো রক্তাক্ত অবস্থায় কুকুরটিকে দেখা যায় । কুকুরটির চারপাশের মানুষ শুধু তাকিয়ে দেখছিলো এবং সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করায় লিপ্ত ছিলো।
(বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের মুখে কুকুর পড়ার ঘটনা।)
অথচ কুকুরটিকে বাঁচনোর কোনো চেষ্টা কেউ করেনি। মানুষ বর্তমান সময়ে এতোটা নিষ্ঠুর এবং নির্দয় হয়ে গেছে যে কারোর চরম ক্ষতি হলেও কেউ সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে না। অবলা প্রাণীর জন্য কারোর কোনো মায়া হওয়া দূরে থাক তারা মারা গেলেও মানুষের কোনোকিছু যায় আসেনা। অথচ একটা মানুষ বিপদে পড়লে মানুষ হয়ে মানুষ এগিয়ে না আসলেও এমন অসহায় প্রাণীরা এগিয়ে আসে তাঁদের সহায়তা করার জন্য।পৃথিবীতে সব প্রাণীর উপকারিতা এবং অপকার উভয়ই আছে।কোনো কিছুকেই শুধুমাত্র ক্ষতিকর কিছুসংখ্যক কারণে সেগুলোর আসল উপকারিতার কথা ভাবা বাদ দেওয়া উচিত না।কোনো প্রাণীর প্রতি নির্দয় হওয়া কারো কাম্য নয়।সুতরাং, আমাদের সকল শ্রেণীর প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি সম্পন্ন হতে হবে। মানুষ হিসেবে সেগুলোর পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব।
লেখিকা : শিক্ষার্থী, সমাজকল্যাণ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।





















