কখনো আকাশ নীল


 
মো. মাসুদুল ইসলাম

মোহন্ত  ,
কেমন আছো? 
বহুদিন দেখা নেই, কথা নেই 
কেমন যেন বড্ড বেশি স্বার্থপর হয়ে গেছো 
আজকাল! 

অথচ এই তুমিই —
হ্যাঁ, এই তুমিই কোনো এক সময়
আমার নামে কি অসাধারণ সব পাগলামিতে
মেতে থাকতে! 
একদিন দেখা না হলে,
কোন একদিন কথা না হলে ;
কেমন যেন বিষন্ন একাকীত্বতায় গম্ভীর হয়ে যেতো তোমার চারিপাশ! 
তুমিতো কতবার বলেছিলে
ভালোবাসার মানুষগুলো খুব এলোমেলো হয়
ঠিক আমারই মতো! 

আমি ঠিকই এখনো সেই এলোমেলোই রয়ে গেলাম! 
অথচ তুমি, তুমি তোমার জীবনটাকে ঠিকই 
গুছিয়ে নিয়েছো নিজের মতোন
এ এক অন্য রকম পৃথিবী! 
সবকিছু মিলিয়ে বেশ ভালোই আছো হয়তোবা! 
দেখেছো তুমি
সময়গুলো কেমন বদলেই যায়!

মোহন্ত ,
এখনো তোমার ভাবনার আকাশ 
আগের মতোই নীল হয় কিনা জানিনা, 
এখনো তুমি আমারই মতোন 
নিছক ভুলভাল মানুষের অপেক্ষায় 
জানালার কার্নিশে মাথা রেখে 
ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকো কি না জানিনা। 
কিন্তু আমার আকাশটা আজও প্রায়শঃই 
কালো মেঘে ঢেকে যায়, 
আমার আকাশটা কেন যেন আজও প্রায়শঃই বেদনায় নীল হয়! 

প্রিয়তম, তুমি যখন 
জোছনার আলোয় সোনালী রোদ্দুর খুঁজো
আমি তখনও মেঘেদের আর্তনাদ গুনি! 
জানো, কেন যেন আজকাল আমার 
তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে! 
বদলে যাওয়া মানুষগুলো দেখতে কেমন হয়
এ কারণেই হয়তোবা খুব দেখতে ইচ্ছে করে তোমাকে! 

পৌষের শিশির সিক্ত প্রভাতে শিউলি ফুলের সেই আভা, 
অনেক প্রতীক্ষার পরে শেষ বেলায় সোনালী চিকচিকে রোদ 
ভর সন্ধ্যায় হাসনাহেনার মন মাতাল করা ঘ্রাণ
তুমি হয়তো এখনো ঠিক একই অনুভব করো। 
কিন্তু বিশ্বাস করো,
এ সবই এখন কেমন যেন 
কেমন যেন আমার কাছে সব 
শুকনো, গন্ধহীন আর ফিঁকে মনে হয়! 

আচ্ছা বলোতো, 
একটা মানুষ কী এমন কিছু 
যার জন্য পুরো জীবনটাই থেমে যায়! 
জানি তুমি বুঝবেনা এ কথার অর্থ অথবা 
বুঝবেনা কতটা অসহায় হলে ঠিক এভাবেই হয়
জীবনের আত্নসমর্পণ! 
তুমি হয়তো বুঝবেনা ভালোবাসার ক্ষতটা 
সত্যি সত্যি কতটা গভীর! 
দেখা যায় না, ছোঁওয়া যায়না, এমনকি 
খুব কাছাকাছি থেকেও কাউকে বোঝানোও যায় না! 
তুমিওতো আজ সেই দূরের বাতিঘর 
তাই হয়তো তোমাকে বোঝাবো
আমার সে সাধ্য কোথায়! 

জানো মোহন্ত,
শুধু চোখে দেখা যায়না বলেই –
আজও খুব সজতনেই 
তোমাকে হারানোর কষ্টটাকে এড়িয়ে যাই ;
হৃদয় অন্ধ বলেই–
তোমাকে ভুলতে চেয়েও কেন যেন আজও 
খুব সজতনেই অর্থহীন একটা কষ্টকে
সারাটা জীবন বুকের ভেতর আগলে রাখি! 
দিন শেষে রাতের অন্ধকারে তারাদের মিতালি দেখি
আর—
আর মনের অজান্তেই কেন যেন বলি–
ভালো থেকো তুমি, খুব ভালো থেকো। 

কবি : প্রধান শিক্ষক, হেলাচিয়া মাজেদা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জ, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *