হিজলের বনতল

হৃদয় রাজ বাড়ৈ

শুকনো ঘাটে ঠেকেছে ডিঙি নাও
শুকায়ে গিয়েছে সেই ঢেউ তোলা জল,
আবারও দেখা হলো নির্জনে দুজনায়
দিল হারা ঝিলপাড় হিজলক্ষার তল।

হিজল ফুলেরা হেসে ঝরে পড়ে নিচে
নিজেরে বিলায়ে যেন বিছানা সাজিয়ে রাখে,
মাতাল সমীর বিলায় স্নিগ্ধ সুবাস
হাতছানি দিয়ে যেন হিমালয় ডাকে।

হাঁটুজলে হেঁটে চলে কচিকাঁচার কুঁড়ি
গাট বেঁধে কুড়ায়ে লয় হিজলক্ষার ফল,
শৈশবের স্মৃতি আঁকে ঝরে পড়া পাপড়ি
হিজলের বনতলে ঝরা ফুলদল।

কুড়ায়ে হিজল ফুল গাঁথিয়া মালা
গায়ের গহনা গড়ে কিশোরীর মন,
ডেকে সারা হয় ঘুঘু গড়ায় বেলা
হিজলের বনে তলে আমরা দুজন।

বৈশাখের বিদায়ী বিকেলবেলা
ঊষ্ণ আবেগময় গ্রীষ্মের কালে,
পুবালি পবন মনে দিয়ে যায় দোলা
দুজনায় দুলে চলি হিজলের ডালে।

দুলিছে হিজল কলি সেই পুব-পবনে
দোলে তার লতাময় ঝুলে থাকা ফল,
আবার কখন যেন হারিয়েছি দুজনে
হেঁটে যেতে হাটা পথে হিজলের তল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *