শুধু নকল প্রতিরোধ নয়, শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন জরুরী

আশা মনি : বর্তমান সরকারের ক্ষমতায়নের পর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর পরীক্ষার কেন্দ্রে নকল প্রতিরোধে নেওয়া নানান উদ্ভাবনীমূলক ব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত। স্বভাবতই কম পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী এ নিয়ে উদ্বেগে থাকলেও সচেতন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সকলেই এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছেন। তাদের মতে, পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যে উদ্যোগ ও চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তা শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজে লাগালে বেশি ভালো হতো।

করোনা মহামারির পর থেকে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি অদৃশ্য বিচ্ছিন্নতা দেখা গেছে, যা দূরীকরণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তারই ধারাবাহিকতায় বহু শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে দূরে সরতে থাকে, যার ফলস্বরূপ আমরা বিগত বছরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ব্যবধান লক্ষ করেছি।

বিগত বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৬৯% শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে এবং প্রায় ৩১% শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, যা ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় প্রায় ১৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পরেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ প্রশাসনের দ্বারা নেওয়া হয়নি। বরং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরাও যে নানাভাবে ঝরে পড়ছে, পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গিয়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যোগদান করছে, হতাশা ও একাকিত্বে ভুগছে—তা প্রতিরোধের বিষয়েও সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

অথচ প্রতিনিয়তই পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশাসন কীভাবে কঠোর ভূমিকা রাখবেন, তার সংবাদ প্রচার হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মনে অজান্তেই এক ধরনের ভীতির সৃষ্টি করছে। অভিভাবকদের মতে, প্রথমে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। শিক্ষাকাঠামোকে আরও আধুনিকায়ন এবং সহজাতকরণের মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা উচিত। পড়াশোনা বিমুখ না হয়ে শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার প্রতি আরও সচেতন হয়, সে বিষয়ে বিদ্যালয়গুলোতে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রাখা উচিত।

পরবর্তীতে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো নিয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়াটা সমীচীন। শুধু পরীক্ষার কেন্দ্রে চাপ সৃষ্টি করা নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নই আমাদের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান বৃদ্ধি করবে বলে আমি মনে করি।

লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ,ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *