শাস্তি নয়, উল্টো আইসিসি থেকে বোনাস পেল বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের পরও জরিমানা নয়, ২০৩১-এর আগেই আরেকটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজক বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে শাস্তির আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত উল্টো পুরস্কারই পেল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক, ক্রীড়াগত বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না। বরং ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি আইসিসি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
সোমবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইসিসি এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
“এই সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার নীতির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। শাস্তির পরিবর্তে সহযোগিতামূলক সমাধানের মাধ্যমে ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য।”

২০৩১-এর আগেই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট
আইসিসি জানায়, তাদের স্বাভাবিক আয়োজন প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও পরিচালনাগত শর্ত সাপেক্ষে ২০৩১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে। এটি আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতার ওপর আস্থার প্রতিফলন এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করার অংশ।

শাস্তি নয়, সমঝোতার পথ
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান ইস্যুতে বিসিবির ওপর কোনো ধরনের শাস্তি আরোপ করা হবে না—এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। একই সঙ্গে বিসিবি চাইলে আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (ডিআরসি)-তে যাওয়ার অধিকারও বহাল থাকবে।

পাকিস্তানের ভূমিকা ও রাজস্ব চাপ
এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির শঙ্কায় পড়ে আইসিসি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গত রোববার লাহোরে পিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসে আইসিসি। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। বৈঠকে পাকিস্তান তিনটি শর্তে ভারতের বিপক্ষে খেলতে সম্মতি দেয়, যার মধ্যে অন্যতম ছিল— বাংলাদেশকে কোনো জরিমানা না করা এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া।

এই বৈঠকের পরই নাটকীয়ভাবে বদলে যায় পরিস্থিতি। পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে রাজি হয় এবং একইসঙ্গে আইসিসি বাংলাদেশকে শাস্তি না দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

আইসিসির বার্তা: বাংলাদেশ অগ্রাধিকারেই আছে
বৈঠক প্রসঙ্গে আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“ক্রিকেটের সর্বোচ্চ স্বার্থে আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবিসহ সব সদস্য দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ক্রিকেটের সততা ও ঐক্য রক্ষা।”

আইসিসির প্রধান নির্বাহী সানজোগ গুপ্তা বলেন,
“টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ছিল দুঃখজনক। তবে এতে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট জাতি হিসেবে আইসিসির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আসেনি।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখনো আইসিসির কাছে অগ্রাধিকারভুক্ত ক্রিকেট পরিসর। দেশের ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক সংযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে— স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা দিয়ে বাংলাদেশকে বিচার করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *