চৌধুরী রুহাশ
এপাশ-ওপাশ, ঘুমঘরে বাতি জ্বলছে,
পৃথিবী হেঁটে যাচ্ছে, আঙুল গুনছে সময়।
ওপাড়ায় সূর্য আড়মোড়া ভেঙে জানলার,
বাইরে বসে থাকা প্রেমিকের অস্থিরতার
না-ঘুমানো আকাশ দেখছে।
রাতের ঘড়ি কাঁপছে ধীরে,
ঘুমেরা ভিজে ওঠে অদৃশ্য শিশিরে।
নিঃশব্দ রাস্তায়, দূরের ট্রামের মতো,
কেউ একজন মনে মনে ডাকছে কাউকে।
সহস্র পা হেঁটে যায়,
সহস্র ঠোঁট নড়ে ওঠে,
কড়া নেড়ে যায় শব্দ-পিয়ন—
চিঠিহীন খামে ভরে রেখে যায়
অপ্রকাশিত বাক্যের দীর্ঘশ্বাস।
বাতাস জানলার ফাঁক দিয়ে
পুরোনো দিনের গন্ধ আনে।
কোনো এক দুপুরের অলসতা
চুপিচুপি বসে পড়ে টেবিলের কোণে।
অভিধান চাদর জড়িয়ে রচনা করছে
প্রেমিকার এলোচুল—
অক্ষরগুলো জড়িয়ে যাচ্ছে,
ব্যাকরণ ভুলে গিয়ে শব্দেরা
শুধু তোমার নামের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলো
মাঝে মাঝে নড়ে ওঠে,
মনে হয় তারা জানে—
এই ঘরের ভেতর কতদিন
অপেক্ষা একা একা হেঁটে বেড়ায়।
রাত বাড়ে,
চোখের ভেতর নদী বাড়ে,
স্বপ্নেরা দরজার সামনে এসে
ফিরে যায় অনাহূত অতিথির মতো।
দূরের কোনো পাখি হঠাৎ ডাকে,
তার ডানায় ভোরের হালকা শব্দ।
পৃথিবী তখনও হাঁটছে,
সময়ের আঙুল তখনও গুনছে
অপূরণীয় মুহূর্তের হিসাব।
এতোদিন ফ্রেম ছিল,
দেয়ালে ঝুলে ছিল নীরবতা—
ছবি ছিল না, রঙ ছিল না।
এতোদিন ফ্রেম ছিল,
প্রেম ছিলো না।
এবং এই ঘরে,
এই নিঃশব্দে,
এই অপ্রকাশিত দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে
আসছে শব্দ-পিয়নের রাত।





















