বিদ্যুৎ বাঁচানোর বিকল্প অনলাইন পাঠদান হতে পারে না

আশা মনি : সম্প্রতি দেশে বিদ্যুৎ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে সরকার বিদ্যুৎ সংকট প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠদানের সময়কাল কমিয়ে ৩ দিনে নিয়ে এসেছে এবং বাকি ৩ দিন অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এতে যেন নদীর একুল বাঁচাতে গিয়ে ওকুল ধ্বংস করার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতে করোনা মহামারীতে, একটি দীর্ঘ সময় অনলাইন পাঠদানের কার্যক্রমে অধিকাংশ শিক্ষার্থী মোবাইল ও ইন্টারনেটের অতিব্যবহারের ফলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যা কাটিয়ে উঠতে এখনো বেগ পেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

নতুন করে আবার দেশের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইন মাধ্যম হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়বে বলেই আশঙ্কা করছে সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা। এছাড়াও আমাদের দেশে এখনো এমন অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং পরিবার রয়েছে যেখানে ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের ব্যবহারের প্রচলন কম আছে। এসব শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার কোনো বিকল্প উপায়ের চিন্তা করেনি।

কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা মনে করে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের ঘরে বসিয়ে পাঠদানে বিদ্যুৎ বাঁচানো সম্ভব নয় বরং এতে বিদ্যুতের ব্যবহার আরো বেশি হবে। সরকারের এমন অদূরদর্শিতাসম্পন্ন সিদ্ধান্তে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পরবে বলে আমি মনে করি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন কাটুক শিক্ষক, লাইব্রেরি, বন্ধু-বান্ধব ও খেলার মাঠের সংস্পর্শে।বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার সংকোচন না করে,বিকল্প কোনো সমাধান বের করা হোক।

লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ,ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *