চৌধুরী রুহাশ
জল বেয়ে নামে রোদ্দুর,
হাওয়ার কোলে মেঘ হাসে,
অনুভবের অনুবাদে সমুদ্দুর ঘুমায়—
অভিযোগের ডাকবাক্সে জমে পুরনো বৃক্ষের শেকড়…
আমাদের পায়ের শহরে কিছু বৃত্তকার মুখ হেঁটে যায়,
ঝুল বারান্দার সহস্র চোখের তৃষ্ণায়…
একদিন একইভাবে এখানে আলো আঁধারের অভিমান ছিল,
রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে কেউ কারো নাম ধরে ডাকেনি—
শুধু হাওয়া জানত কোন ঠোঁটে কতটুকু নীরবতা মিলে,
আর পুরনো দেয়ালে কার হাতের ছাপ রয়ে গেছে আঁকানো।
এই শহর মনে রাখে না, তবু মনে রাখার ভান করে—
প্রতিটা সন্ধ্যায় বাতির নিচে পুরনো ছায়া নতুন হয়ে ফেরে।
যে তৃষ্ণা ছিল জলের জন্য,
সে তৃষ্ণা এখন শব্দের—
কেউ একজন বলুক শুধু, “আমি অক্ষরের চৈতন্য , বানানের ভুলে আছি।”
কিন্তু বারান্দাগুলো চুপ থাকে,
মুখগুলো বৃত্তে ঘোরে— সমুদ্দুর ঘুমের ভেতরে ডাকে,
রোদ্দুর জলের ভেতর মরে।
কোথাও কোথাও রাস্তা ভেজা থাকে
জলের স্মৃতি আছে—
মাটি ভোলে না কোন পায়ের ভার,
কোন কান্না কোন বৃষ্টির সাথে মিশে গেছে।
ঘড়ি চলে, দেয়াল ফাটে,
নতুন রঙে পুরনো দাগ ঢাকা পড়ে—
তবু কোনো রাতে হঠাৎ গন্ধ আসে, দেয়ালের সেই পুরনো আঁচড়ের,
কেউ ছিল একদিন — এই বোধটুকু জাগে।
তৃষ্ণা কি শুধু জলের হয়?
নাকি থাকার, ছোঁয়ার, বোঝার?
এই শহরে সবাই খোঁজে এমন কিছু যা হারায় না কোনোকালে।
আলো যায়, আঁধার আসে,
আঁধার সরে, আলো জ্বলে—
দুজনেই একে অপরকে চায়,
দুজনেই একে অপরকে ছেড়ে চলে।
আমরা মাঝখানে দাঁড়িয়ে,
না আলোয়, না আঁধারে—
তৃষ্ণার নাম জানি না আমরা,
শুধু জানি তৃষ্ণা আছে।
তবু খোঁজা থামে না,
পথ ফুরালেও পা চলে—
যে তৃষ্ণা জন্মেছে বুকের ভেতর,
সে তৃষ্ণা মেটার নয় কোনোকালে।
জল দাও — আরো চাই,
শব্দ দাও — আরো চাই,
আলো দাও, আঁধার দাও,
সব নিয়েও শূন্য থাকি তাই।
এই তৃষ্ণাই আমাদের পরিচয়,
এই তৃষ্ণাই আমাদের বাঁচা—
মেটে না বলেই তো খুঁজি,
মেটে না বলেই তো আছি।
রোদ্দুর বেয়ে নামে জল,
মেঘের কোলে হাওয়া হাসে,
সমুদ্দুরের অনুবাদে অনুভব ঘুমায়—
পুরনো বৃক্ষের ডাকবাক্সে জমে অভিযোগের শেকড়…
আমাদের বৃত্তকার মুখের শহরে কিছু পা হেঁটে যায়,
সহস্র চোখে ঝুল বারান্দার তৃষ্ণায়…
একদিন একইভাবে এখানে আলো আঁধারের অভিমান ছিল….





















