— চৌধুরী রুহাশ
আদরের কদর যদি না বুঝে,
তাতে আর কী-ই বা করা যায়?
আত্মার আকুতি যদি না শোনে,
তাকে কি আর ধরা যায়?
চোখের ভাষা যদি না পড়ে,
মনের নদী যদি না বয়—
তবে সেই স্রোত শুকিয়ে গেলে
নিঃশব্দ মরুভূমি হয়।
চাইলেই তো সব মাথা নোয়ায়,
ঘর-সংসার আলোয় ভোলায়।
ভাঙা স্বপ্ন জোড়া লাগে,
আঁধার ঘরে আলো জাগে—
হাসি ফিরে আসে আবার
দু’জন মানুষের প্রাণের ভেতর।
না চাইলেই বিষাদের ছায়া,
আমি, তুমি, সে—
নিজেরাই বেঁধে ফেলি মায়া।
জগৎ বলে, আমাকে সাজাও,
সাধু হয়ে তুমি বাঁশি বাজাও।
বুকের ভেতর করুণ আর্তনাদ,
লোভ-ক্ষোভে জেগে ওঠে বিবাদ।
মুখে হাসি, চোখে আলোর ঝলক,
ভেতর জুড়ে জমে নিবিড় অন্ধকার—
অভিমানী নীরবতার বুকে
কাঁদে শব্দহীন হাজার আর্তস্বর।
চাইলেই তো মেটে সব বিরোধ,
ঘর-সংসার ভরে একই আলোর বোধ।
একটু ভালোবাসা দিলে
শীতল হয় ক্রোধের আগুন—
একটু নরম কথায় ভাঙে
অহংকারের কঠিন বাঁধন।
না চাইলেই জটিল সব পথ,
আমি, তুমি, সে—
নিজেরাই বাড়াই দুঃখের রথ।
বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখো,
উত্তর পেলে পথও দেখো।
অন্ধকারে হাঁটতে হাঁটতে
হঠাৎ যদি আলো মেলে—
তবে সেই আলো আঁকড়ে ধরে
জীবনটাকে গড়ে নাও নতুন করে।
সোজা মনে হৃদয় খুলে,
মিছে কেন চোখের জলে ভুলে?
মানুষ তো মানুষই শেষে,
ভুলে যায়, আবার মেশে।
একটু কাছে এলে বোঝা যায়
অভিমানের পাহাড়ও গলে—
দু’ফোঁটা সত্যিকারের ভালোবাসা
কঠিন পাথরও ভাঙে ছলে।
চলো একদিন আত্মার টানে,
নীরব কোনো সত্যের গানে—
যেখানে নেই কোনো ভান,
নেই লোভ, নেই মিথ্যে মান।
সেখানে শুধু মানুষ থাকে
মানুষেরই সহজ প্রাণের বাঁকে।
এই তো হে সুন্দরতম মুখ,
বেঁচে থাকা হাসির সুখ—
যেখানে দুঃখ এলেও শেষে
ভালোবাসা জেগে ওঠে আবার।
যেখানে হাত ধরাধরি করে
চলে মানুষ একই পার।
চাইলেই তো মন সহজ-সরল,
ঘর-সংসার থাকে চিরসজীব, সফল।
একটু আলো, একটু আশা,
একটু করে ভালোবাসা—
এইটুকুতেই জীবন ভরে
নতুন দিনের প্রত্যাশা।
না চাইলেই অকারণ প্রমাণ,
অহংকারের কঠিন দেয়াল—
আমি, তুমি, সে—
নিজেরাই গড়ি দূরত্বের জাল।
তবু শেষমেশ এটাই প্রমাণ
সব পথ এসে
প্রাণে মেশে —
আমি, তুমি, সে—
একই সুরে বাঁধা পরাণ।





















