চৌধুরী রুহাশ
মন ভালো নেই,
কেমন কেমন লাগে—
যেন ভেতরে ভেতরে কেউ
নিঃশব্দে ভাঙছে,
কাচের মতো,
কিন্তু শব্দ নেই কোনো।
বিশাল এক মরুভূমিতে
তপ্ত রোদের নিচে দাঁড়িয়ে আছি,
উষ্ণ বালু পায়ের তলায় জ্বলে,
হাওয়া নেই, ছায়া নেই,
শুধু আকাশ—
নিষ্ঠুর নীল এক আকাশ।
তৃষ্ণার্ত এক বেদুইনের মতো হাঁটি,
জানি না গন্তব্য কোথায়,
জানি না পথ আছে কিনা,
তবু পা সরে যায়—
থামলে আরও বেশি কষ্ট,
এটুকু জানি।
চারদিকে শুধু শূন্যতা,
বিস্তীর্ণ, নিঃসঙ্গ শূন্যতা—
যেন পৃথিবীর সব মানুষ
একসাথে ঘুমিয়ে পড়েছে,
আর আমি একা জেগে
নিজের ছায়ার সাথে কথা বলছি।
পায়ের নিচে জ্বলন্ত সময়,
প্রতিটি মুহূর্ত একটি অঙ্গার,
দূরে মরীচিকা ডাকে—
ঝলমলে, প্রলোভনের মতো সুন্দর।
দৌড়ে যাই,
বুকে আশার শিখা জ্বেলে—
কাছে গেলে দেখি,
সেটাও ফাঁকা।
শুধু বালু আর বালু,
আর নিজের হাঁটু মুড়ে পড়ে যাওয়ার ইচ্ছে।
কিন্তু থামি না।
পড়ে যাই, উঠি।
আবার পড়ি, আবার উঠি।
কারণ এই একলা পথেই
কোথাও না কোথাও
একটা কূয়া আছে—
আমি বিশ্বাস করি।
রাতে যখন বালু ঠান্ডা হয়,
আকাশ ভরে ওঠে তারায়,
তখন বুকের ভেতর থেকে
উঠে আসে নিঃশব্দ দোয়া—
শব্দ নেই, ভাষা নেই,
শুধু একটা আর্তি
সরাসরি আরশের দিকে।
আমার জন্য দোয়া করিও।
তোমার সকল “আস্তাগফিরুল্লাহ” শেষে
একবার মনে করিও আমাকে—
নাম ধরে নয়,
শুধু বলিও—
“হে আল্লাহ, যে কষ্টে আছে,
তাকে একটু সহজ করে দাও।”
হঠাৎ একদিন যাতে দেখি—
সব কিছু সূরা
কাওসারের মতোন সহজ হয়ে গেছে।
ছোট্ট তিনটি আয়াত,
অথচ কী অসীম প্রতিশ্রুতি—
“নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি অফুরন্ত কল্যাণ।”
আমিও সেই কল্যাণের অপেক্ষায় আছি।
হাঁটছি।
এখনো হাঁটছি।





















