চৌধুরী রুহাশ
মেঘ জমে আজ দূরের আকাশে,
কেউ দেখে রূপ, কেউ বোঝে সংকেত।
শহর বলে — বর্ষা এলো বেশ,
মাঠে কাঁপে নিঃশব্দ আশঙ্কার রেত।
শহরে তখন ক্যাফের কাচে
বৃষ্টির ছবি তোলে কেউ ফোনে,
ক্যাপশন দেয় — রেইনি ভাইব —
গ্রামের খবর পৌঁছায় না সে কোণে।
বীজ পুঁতে রাখা স্বপ্নের দল
প্রথম ফোঁটায় কেঁপে ওঠে হেসে,
কৃষকের চোখে তখনো আলো —
হয়তো এবার ঋণটা মিটে যাবে শেষে।
কিন্তু বৃষ্টি মানে না কোনো সীমা,
সে নামে ভাঙা বাঁধের মতো আঘাতে,
জমিন ডোবে — ধীরে, নির্দয়ভাবে,
সব হিসেব ভাসে ঘোলা জলের সাথে।
চৌকাঠ ডিঙিয়ে ঢোকে কালো জল,
ঘরের মেঝে হয় খালের সমান,
চুলার আগুন ফোঁসে — তারপর চুপ,
ক্ষুধা ছড়ায় নিঃশব্দ, অদৃশ্য ধোঁয়ার মাচান।
শহরে সেদিন ফুড ফেস্টিভ্যাল,
আলোর নিচে হাসি, খাবার, ভিড়,
কেউ বাছে পিৎজা, কেউ বাছে পাস্তা —
গ্রামের চুলা তখন নিথর, স্থির।
কেউ আর খোঁজ রাখে না তখন,
এই ডোবা মাঠের গল্প কার কাছে?
সংবাদ হয় বড় শহরের,
গ্রামের কান্না মাটির নিচে বাঁচে।
টিভি পর্দায় ব্রেকিং নিউজ —
উপজেলা ডুবেছে, ক্ষয়ক্ষতি বিশাল,
রিমোট ঘোরে — বদলায় দৃশ্য,
ক্রিকেটে মাতে, যেনো ঈদের হিলাল।
তবু ভোর হলে সে উঠে দাঁড়ায়,
দু’হাতে মুঠো করে ভেজা মাটি,
যে মাটি সব নিয়ে যায় একা একা —
সেই মাটিই তো আবার ভরবে ঘাটি।





















