মীম আক্তার : বর্তমানে প্যাকেটজাত খাবারের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। সময় বাঁচানো ও সহজলভ্যতার কারণে মানুষ এ ধরনের পণ্য ব্যবহার করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বেকারি পণ্য, চিপস, স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট ফুড, দুগ্ধজাত পণ্য ইত্যাদি।
বাংলাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ প্যাকেটজাত পণ্য বা ওষুধের গায়ে নতুন করে মেয়াদের তারিখ বসানো বা প্যাকেজিং পরিবর্তন করে তা পুনরায় বাজারে ছাড়ার কারসাজি একটি গুরুতর অপরাধ। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে প্রায়শই এমন জালিয়াতি ধরা পড়ে, যেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ কেক, বিস্কুট, বীজ, বা ওষুধের প্যাকেটের তারিখ পরিবর্তন করে নতুন হিসেবে বিক্রি করা হয়।
অনেক সময় এসব পণ্য আমরা আমাদের খাদ্য তালিকায় রাখি, যার মধ্যে অনেক পণ্যেরই মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। অসাধু ব্যবসায়ীরা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের তারিখ মুছে বা নতুন স্টিকার লাগিয়ে তা আবার খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে। এরা অ্যাসিটোন বা অন্য কোনো কেমিক্যাল দিয়ে পণ্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ মুছে নতুন তারিখ প্রিন্ট করে বিক্রি করছে। আবার অনেক ব্যবসায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য প্যাকেট থেকে বের করে নতুন প্যাকেটে বা খোলা হিসেবে বিক্রি করে।
অনেক সময় দেখা যায় জনপ্রিয় ব্র্যান্ড বিভিন্ন ডিসকাউন্টের মাধ্যমে মেয়াদ শেষ হওয়া পণ্য কম দামে বিক্রি করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ, এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত থাকে। এসকল মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেলে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, ফুড পয়জনিং এবং কিডনি বা লিভারের ক্ষতি হতে দেখা যায়। বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযানে পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকায় ২০২৫ সালের শুরুর দিকে একটি গুদামে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ করা হয়। এছাড়া বিক্রেতারা নানা কৌশলে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি করে থাকে। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও বিএসটিআই-এর নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
এছাড়া পণ্য কেনার আগে তারিখ, লট নম্বর ও বারকোড ভালোভাবে চেক করা জরুরি। এছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারিই পারে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের কারসাজি রুখতে।
লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা।





















