বায়ু দূষণ দেশের বড় সমস্যা

দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ুদূষণে বছরে মৃত্যু ১০ লাখ, জিডিপি ক্ষতি ১০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য মতে, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের বিশাল অঞ্চলে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত অস্বাস্থ্যকর বাতাসে নিশ্বাস নিচ্ছে। বায়ুদূষণ এখন আর কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের জন্য একটি চরম উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর বায়ু দূষণের কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে এবং আঞ্চলিক জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই দূষণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। সীমানা ছাড়িয়ে আসা এই দূষণ রুখতে এখন প্রয়োজন সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি- উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। তথ্যটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বায়ুদূষণ রোধে দেশে কোনো কার্যকর ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হচ্ছে না। বায়ুদূষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নানা সময়ে নানা সুপারিশ এসেছে, যার কোনোটিই বাস্তবায়নের সক্রিয় উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। সম্প্রতি প্রকাশিত স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার রিপোর্টের পঞ্চম সংস্করণে দেখা গেছে, ২০২১ সালে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে অন্তত দুই লাখ ৩৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপের কারণে দুই লাখ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে এক লাখ ৩০ হাজার ৪০০ এবং তামাকের কারণে এক লাখ ৩০ হাজার ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বায়ুদূষণে এক বছরে দেশে ১৯ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যুর সংবাদ আমাদের বিচলিত করে। ইউনিসেফের সঙ্গে হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট (এইচইআই)-এর গবেষণা প্রতিবেদন থেকে আমরা জানি, বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী বাতাসের মানের উদ্বেগজনক অবস্থা, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষভাবে বলা প্রয়োজন, বাংলাদেশ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে লোয়ার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণে পাঁচ বছরের কম বয়সী যত শিশুর মৃত্যু হয়, যার ৪০ শতাংশের জন্যই দায়ী নীরব মহাঘাতক বায়ুদূষণ। রাজধানী ঢাকা বায়ুদূষণের জন্য বিশ্বে প্রায়ই শীর্ষস্থান দখল করে থাকে। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ২ থেকে ৪ এর মধ্যে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য দায়ী প্রধানত নির্মাণ কাজের ধুলা, শিল্পকারখানা-ইটভাঁটি ও যানবাহনের ধোঁয়া। প্রতিবেশী দেশের সীমান্তের ওপার থেকে ধেয়ে আসা দূষিত বায়ুকেও দায়ী করা হয়েছে। দেশে পরিবেশ অধিদপ্তর ও দুই সিটি কর্পোরেশনের দায়ও কম নয় কোনো অংশে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২৯ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বায়ুদূষণসহ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ ও কার্যক্রম দৃশ্যমান নয় এখনো। ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, সর্দিকাশি, জ্বরসহ রোগব্যাধি বাড়ছেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *