শাহীন আলম শুভ
নানা: কই রে আমার আদরের নাতি?
নাতি: কও নানা কি হয়ছে? ডাকলা কেন আমারে?
নানা: তোকে নিয়ে এক জায়গায় যামু
জার্নি টা সারা দিনের, মোটামুটি অনেক দূরের আমার তো বয়স হয়ে গেছে, চোখে কম দেখি তাই আগে মতো ঠিকঠাক বাইক চালাতে পারিনা।
-()-
নাতি: তুমি কি কানা? নাকি বয়রা?
নানা: কেন রে? আমি তো ঠিকঠাক তো আছি!
নাতি: মোটেই তুমি ঠিকঠাক নাই তোমাকে পাবনা পাগলাগারদ নিয়ে যেতে হবে।
নানা: তুই আমার সাথে ফাজলামি না করে, কি বুজাতে চাস কাশি দিয়ে খুলে বল তো।
নাতি : রাস্তার পাগলে ও জানে, নদীর মাঝি ও জানে,জমির ও কৃষকে ও জানে, গর্ববতী কুত্তা ও জানে,জানো না কেবল তুমি?
নানা: আরে কি জানে, এত বড় রচনা না বলে
সংকেত করে বল তো।
নাতি: কেন তুমি জানো না? তুমি কি বাংলাদেশের নাগরিক না? দেশের সব খবর আখবর রাখো না?
নানা: আরে তুই দেখি পুরো ইতিহাস রচনা শুরু করে দিলে, আমি বুড়ো বয়স্ক আগের মানুষ এতকিছু খবর পামু কই?
নাতি: কেন টিভিতে দেখো না দেশে কি হচ্ছে?
নানা: দূর,তোর , টিভি টাবা,এসব মিথ্যা খবর,আর তেলবাজি ছাড়া কিছু হয়না!
নাতি: থামো/থামো/ শেষের টা কি বলছিলা আবার বলো তো?
নানা: শেষে কইছিলাম তেলবাজি
নাতি: এর মানে কি?
নানা: যে যারে তেল দিয়ে চলতে পারে,সেই দেশের বড় নেতা খেতা,হোক সে ঘন্ডমূর্খ চোর,বাটপার, অথবা চাঁদাবাজ বদমাশ, তেল মারতে পাতলেই সে হয় মান্যগন্য নেতা।
নাতি: হ্যা তোমার কথাই ঠিক,আর এরজন্য বর্তমান শাসনে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর থেকে, দেশে শুরু হয়ছে মহামারি।
নানা: আরে কি আবল তাবোল বলিস তুই?
কই মহামারী আমি তো দেখি না?
নাতি: আরে বুড়ো নানা, শুধু কি অসুস্থ রোগ ছড়ালেই মহামারী হয়?
নানা: তাহলে আর কি?
নাতি : অন্য দেশে বড় ধরনের রোগ ছড়াছড়ি করলে সেটা মহামারী হয়।
তবে আমাদের দেশে তে তাছাড়া আরো কিছুতেই মহামারী হয়।
যেমন ধরো..
এতক্ষণ যে আমারে বুজায় লা,,, টিভিতে হলুদ মিডিয়া তেলবাজি করে,সত্য কে মিথ্যা বানায়, খারাপ কে ভালো বলে চালিয়ে দেয় সেটা কি মহামারি নয়?
নানা: আরে নাতি কথাটা যুক্তি আছে, এমন তো আমি আগে ভাবি নাই!
আচ্ছা যায় হোক,এত কথা না বলে
এখন ,কাজের কথা বল,আমাকে নিয়ে যাবি কিনা তোর বাইকে করে?
নাতি: আরে বুইড়া নানা, এতক্ষণ ধরে কি বুজলাম আমি আর কি বুজলা?
নানা: যা বুজাইলি তো বুজলাম,তাতে আমার যাওয়ার সাথে সম্পর্ক কি?
নাতি: উফফ,এই বুড়ো নিয়া তো বিপদে আছি
তেলবাজি কারণে বাংলাদেশে বাইকের তেলের সংকট, কোথায় তেল নাই।
নানা: আরে কইলি টা কি? এমন তো হওয়ার কথা না? এই দেশে তো তেলের সংকট নাই?
নাতি: তোমার নাতিরা,মানে যাদের কে জনগণ দায়িত্ব দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে,
তারা এতো পরিমাণ তেলবাজি করছে যে,
যে কারণে এখন তেল নাই।
কোনো জাগায় তো থেকো ও নাই,আর মামু খালু,সরকারি দলের আত্মীয় স্বজন তারা ঠিকি পাচ্ছে। আর সাধারণ জনগন, কম্বল বালিশ, মশারি নিয়ে এক সাপ্তাহ আগে দিনরাত এক করে সিরিয়ালে থাকতে হয় সেই তেলের জন্য।
নানা: সাড়ে সর্বনাস! একি আজব অবস্থা? এমন পরিস্থিতি কখনো ছিলো না রে?
নাতি: এবার বুজো টেলা, কি পরিমাণ তেলবাজি করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়?
নানা: তোরে আর কি কমু রে নাতি, আগেই ভালো ছিলাম,
নাতি: আগে বলতে কি কবে ভালো ছিল?
নানা: আরে, যখন আমরা
গরুগাড়ি ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে ছড়তাম,
সেই যুগটাই কথায় বলছিলাম।
নাতি: ওও তাই তো।আমি আরো অন্য আগের কথা ভাবছিলাম।
নানা: অন্য আগে মানে কি রে?
নাতি: অন্য আগে মানে বলতে–যে লাউ সেই কুূদু এটা বুজো?
নানা: ওও বুজছি, দুই সাপের একি বিষ।
,
নাতি: হাঁ তাঠিক,
কিন্তু তোমার আগে যুগ টাই সেরা ছিলো
তখনকার মানুষ ও ভালো ছিলো,কথা দিয়ে কথা রাখতো,কোনো সাক্ষী ছিলো না,এক কথায় কার্যকর হতো।
আর এখন,দেখো সামান্য চাতি নেতা, পাতি নেতা, থেকে শুরু বেশিভাগ পাওয়া যায় তেলবাজ, ধোঁকাবাজ বাটপার,এবং চাঁদাবাজি তে মাস্টার কি’বা পিএসডি করা
যারা কথায় কথায় মিথ্যা বলে।
যেমন :-
নির্বাচনের আগে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে,
পরে আর খবর নেই সেই নেতা খেতার,
এসব মিথ্যা,মির্জাফরের কারণে এই দেশে ১০০% উন্নয়ন হয়না।
চোর বাটপার, অযোগ্য নেতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
নানা: থাম থাম, তুই এসব সত্য হকের কথা বল্লে,তোরে সহ,নানা নাতিকে জেলে নিয়ে যাবে এবার থাম থাম।
নাতি: হ, ঠিকি কইছো নানা, চোর যখন পাহারাদের ভয়ে চুরি করতে পারবে না!
তখন সেই পাহারাদার কে রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলে,আর উচিত কথা কইলে অপরাধীর গায়ে জ্বলে।
আর যখন ওই চোরটাই পাহারাদার হিসাবে ক্ষমতায় বসে, তখন সেই কাজটি প্রকাশে করে।
নানা: ওরে চান্দু নাতি রে,আর বলিস নারে এসব,আর বলে লাভ নাই,আল্লাহ কাছে বিচার দে,, আল্লাহ সঠিক বিচারক।
নাতি : হ নানা,এছাড়া আমি একা কি করবো?
আর কিছু মানুষ নামে নরপশু স্বার্থবাজ জনগণ আছে যারা বাপদাদার অনুসরণ করে,
বাপ দাদা যদি ভুল পথে চলে, তবুও তারা সেই ভুল পথে চলবে।
তারা জেনে ও শুনে ও অযোগ্য খারাপ ব্যক্তি কে ক্ষমতার চেয়ারে বসাবে তাতে সে
নিজে ও কিছু চেটেচেটে খাবে,নেতা কে ও লুটপাটে খাওয়ার সুযোগ করে দিবে।
নানা: তুই তো আমার বয়সে ছোট,কিন্তু তোর
প্রত্যেক কথা গুলো নিরপেক্ষ এবং চির সত্যি কথা।
যা কেবল ভালো মানুষর ছাড়া কেউ বলতে পারে না এসব কথা।
যায় হোক
নাতি,একটা বুদ্ধি মাথায় আইছে
নাতি: কি বুদ্ধি আইলো বলো!
নানা: আমাদের ইউনিয়নের মেম্বার
(খবিস মিয়া) তার কাছে গেলে মনে হয় একটু তেলের ব্যবস্তা হতে পারে।
নাতি: হাহাহা, নানা গো,খবর নিয়ে দেখো
সে মেম্বর বেডা, চেয়ারম্যান কে তেল মারতে মারতে তার নিজের গায়ে লাগানোর মতো তেল নাই।
নানা: তাহলে চল, চেয়ারম্যানের কাছে যায়
নাতি: চেয়ারম্যানের কথা বলছো?
সে ও এমপি কে তেল মারতে মারতে নিজের ও তেল নাই
নানা: তাহলে কি করুম বল, এমপি কাছে গিয়ে কি চাইমু?
নাতি: আহা, তোমার জন্য এমপি বসে আছে তেল নিয়ে ঘরে!
সে ও দেখো মন্ত্রীর বাড়িতে তেল মারতে ব্যস্ত।
নানা: দূর হালা, আর যামুই না,এর চেয়ে ভালো হেঁটে চলে যায়।
নাতি: এটাই করো, নয়তো স্বপ্ন দেখে দেখে স্বপ্ন দোষে ভিজে যাবে, তবুও মাগার তেল পাবে না এই দেশে।
কথায় আছে ছাগল দিয়ে জমি চাষ হয়না,
তেমনি আমাদের বাংলাদেশে অযোগ্য মিথ্যাবাদী, চরিত্রহীন পশু দিয়ে কখনো এ দেশে সুশাসন নিশ্চিত হবে না।
কেননা আমরা জানি রাজার ছেলে রাজা হবে,
পূজার ছেলে যেমন ছিলো তেমনি রবে।
এটাই দেশের কিছু মূর্খ ভারতপন্থী মানে।
নানা: এর জন্য এই অবস্থা! এর জন্য সরকার শুধু দায়ী নয়!
আমরা জনগণ বেশি দায়ী,আমরা তো, কাল কেটে কুমির কে দাওয়াত করি।
পরে যে লাউ সেই কদু নিয়ে ভাগাভাগি।





















