বই কিছু হুমায়ূন

খাদিজাতুল খোরশেদ খুশি : প্রথম লেখাটাই ছিল উনার বাবা শহিদ ফয়জুর রহমান আহমেদ কে নিয়ে।হুমায়ূন এর বাবা রাগী ছিল বলে পুত্রদের সঙ্গে দুরত্ব ছিল।কিন্তু ফয়জুর রহমান আহমেদ তার কন্যাদের প্রতি অতিরিক্ত দুর্বল ছিলেন।পুলিশে চাকরি করার ফলে কিছু দিন পরপর বদলি হতো।সেই সুবাদে উনার সন্তানদেরও নানান এলাকায় থাকা হয়েছে। সবশেষে দেশপ্রেমের অপরাধে ১৯৭১ সালে তাকে হত্যা করা হয়েছিলো।

‘ইব্রাহিম খাঁ : একজন মানুষের গল্প’- এই লিখায় তিনি বলেছেন ইব্রাহিম খাঁ এর কথা,সাথে গুলতেকিনের কথা।হুমায়ূন আহমেদের ‘শঙ্খনীল কারাগার’ বই পড়ে বারো বছরের এক মেয়ে চিঠি লিখেছিলো।চিঠি পেয়ে হুমায়ূন আহমেদ সরাসরি উপস্থিত হয়েছিলো ভক্তের বাড়ীতে।মেয়ের মা যখন দরজা খুলে শুনলেন মধ্য বয়স্ক এক লোক এসেছে তাঁর মেয়ের সঙ্গে গল্প করতে, সেটা শুনে তার অবস্থা কেমন সেটা সবাই বুঝবেই।হঠাৎ হুমায়ূন আহমেদ দেখতে পায় মেয়েটি বৃদ্ধ ভদ্রলোককে নিয়ে আসছে।বৃদ্ধ লোকটিই ছিল ইবরাহীম খাঁ।সেদিনই হুমায়ুন আহমেদের ইবরাহীম খাঁ এর সাথে পরিচয়। এরপর ১৯৭৬ সালে ইবরাহীম খাঁ সাহেবের নাতনীকে বিয়ে করেন হুমায়ূন আহমেদ। সেই নাতনি ই ছিল বারো বছর বয়সী চিঠি লিখা সেই ভক্ত।সেই নাতনী ই ছিল গুলতেকিন।

কাজী আনোয়ার হোসেন সম্পর্কে বলেছেন,আজ এদেশের ছেলেমেয়েরা বই পড়ছে। এই পড়ুয়াদের বড় অংশ কাজী আনোয়ার হোসেন তৈরি করে দিয়েছেন।

১৯৮৩ সনে বইমেলায় গিয়ে হুমায়ুন আহমেদ দেখতে পায় এক তরুন পুরুষ কে ঘিরে ভীড় জমে আছে।সবাই অটোগ্রাফ নিচ্ছে।তারপর একজনকে জিজ্ঞেস করে শুনতে পেলেন উনি ইমদাদুল হক মিলন।তখন ইমদাদুল হক মিলন ছিলেন বেশ জনপ্রিয়।সেদিনের আগে তিনি ইমদাদুল হক মিলনকে চিনতেন না।এরপর তিনি একটা বই কিনে ইমদাদুল হক মিলনের কাছে যান অটোগ্রাফ নিতে।দুর্ভাগ্য বশত ইমদাদুল হক তার নাম লিখেছিলেন হুমায়ুন আহমদ।

এছাড়া বইটিতে কয়েকটি চিঠি রয়েছে। সেগুলো হলো মিন্নাত আলীকে লেখা হুমায়ূন আহমেদের চিঠি, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে লিখা হুমায়ূন আহমেদের চিঠি, তিতাশ চৌধুরীরকে লিখা হুমায়ূন আহমেদের চিঠি, চিত্তরঞ্জন সাহাকে লিখা হুমায়ূন আহমেদের চিঠি এবং হুমায়ূন আহমেদকে চিত্তরঞ্জন সাহার উত্তর।

উল্লেখ্য : এই বইটিতে রয়েছে হুমায়ূন আহমেদের অগ্রন্থিত কিছু গদ্য এবং পত্রগুচ্ছ।

বইয়ের নাম : কিছু হুমায়ূন (হুমায়ূন আহমেদের অগ্রন্থিত গদ্য ও পত্রগুচ্ছ)
সংকলন ও সম্পাদনা : পিয়াস মজিদ
মুদ্রিত মূল্য : ১৬০ টাকা মাত্র
প্রকাশনী : অন্বেষা

লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা।

লেখিকার ই-মেইল : Khadijatulkhurshedkhushi@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *