প্রথম বিদেশ ভ্রমণ কলিকাতা

প্রথম বিদেশ ভ্রমণ হিসেবে বেশিরভাগ বাংলাদেশিই ভারতেই যান। বৃহত্তম শহর ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী কলকাতা শীর্ষ গন্তব্যের তালিকায় শীর্ষে থাকে সবসময়। ২০২৪ সালে আপনারও কলকাতা যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, এই লেখাটি আপনার জন্য।

তিলোত্তমা শহর কলকাতা
কী নেই এই শহরে! আছে ঐতিহাসিক স্থাপত্য, গঙ্গা, হাতে টানা রিকশা, ট্রাম থেকে শুরু করে ইতিহাসের গল্প বলা অসংখ্য রাস্তা। ধর্মতলা থেকে কলেজস্ট্রিট, মারকুইজ স্ট্রিট থেকে হাওড়া ব্রিজ- সবখানেই তো ছড়িয়ে আছে শতবর্ষী সব স্থাপনা, শতবর্ষের ইতিহাস। ৩৩৩ বছরের পুরোনো এই শহর আপনাকে মুগ্ধ করবেই। তাইতো কলকাতাকে বলা হয় ‘সিটি অব জয়’ বা ‘আনন্দ নগরী’।

হুগলীর তীরে জব চার্নকের হাত ধরে গড়ে ওঠা এই শহরেই জন্মেছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসুসহ আরো অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব। বহু প্রাচীনকাল থেকেই ঐতিহাসিক স্থাপত্য, হাওড়া ব্রিজ, দুর্গাপূজা, স্ট্রিট ফুড, সর্বোপরি রসগোল্লা ও কলকাতা বিরিয়ানির টানে নানা প্রান্তের মানুষ ছুটে আসেন এখানে।

প্রথমবার এসে আপনি কী দেখবেন কলকাতায়?
কলকাতাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে দেখার বহু উপকরণ। পায়ে হেঁটে কিংবা বাস, ট্রাম, মেট্রোয় ঘুরে নিতে পারেন শহরের নানা স্থান।

ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম: এশিয়ার অন্যতম এক প্রাচীন জাদুঘর এটি। তিমি, ডাইনোসর সহ নানা প্রাণীর জীবাশ্ম কঙ্কাল, পুরোনো সাম্রাজ্যের ব্যবহৃত নানা জিনিস, মিশরীয় মমি যদি চোখের সামনে দেখতে চান তবে অবশ্যই ঘুরে আসতে পারেন এখানে।

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়: কলকাতার জোড়াসাঁকোতে এই ঠাকুর পরিবারে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের জন্ম হয়। বর্তমানে এখানে একটি মিউজিয়াম ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রত্যেকটি বাঙালির কাছেই এটি পুণ্যভূমি।

কলেজ স্ট্রিট: বইপ্রেমী বাঙালি বারবার ছুটে যান এই বই পাড়ায়। প্রায় এক মিলিয়ন বর্গফুট এলাকা নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম সেকেন্ড হ্যান্ড বইয়ের বাজার কলেজ স্ট্রিট। ভারতের বৃহত্তম প্রকাশনা সংস্থার আবাসস্থল এটি। এছাড়াও এখানে রয়েছে হিন্দু কলেজ, হিন্দু স্কুল, সংস্কৃত কলেজ, মেডিকেল কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কফি হাউসের মতো নানা বিখ্যাত হেরিটেজ।

আলিপুর চিড়িয়াখানা: এখানে আছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, আফ্রিকান সিংহ, জাগুয়ার, জলহস্তী, গন্ডার, জেব্রা, জিরাফ, এমু পাখি, হাতি, অস্ট্রিচ, হরিণ সহ দেশ বিদেশের নানা পাখি ও বানর। শিশুদের জন্যে এটি একটি আদর্শ ভ্রমণ স্থল।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল: শ্বেত পাথরের তৈরি ইংল্যান্ডের মহারানি ভিক্টোরিয়ার নামাঙ্কিত স্মৃতিসৌধটি বর্তমানে একটি প্রদর্শনীশালা। তবে অতিরিক্ত দূষণের কারণে শ্বেত পাথরে লেগেছে এখন মলিনতার ছোঁয়া।

সায়েন্স সিটি: বিজ্ঞান সংগ্রহশালাটিতে রয়েছে- স্পেস এক্সিবিশন, ডায়নামোশেন, আর্থ এক্সপ্লোরেশন, মেরিটাইম সেন্টার ও সায়েন্স পার্কসহ আরো অনেককিছু।

হাওড়া ব্রিজ: শত ইতিহাসের সাক্ষী এই ব্রিজ দাঁড়িয়ে আছে হুগলী নদীর উপর। উনিশ শতকের সেতু প্রকৌশল ও প্রযুক্তির অন্যতম নিদর্শন এটি। নকশা, উপকরণ ও বাস্তবায়নের অভিনবত্বের জন্য এটি এখনো দর্শনার্থীদের আগ্রহের শীর্ষে। এছাড়া কাছেই রয়েছে জেমস প্রিন্সেপ ঘাট।

এছাড়াও নাখোদা মসজিদ, বেলুড় মঠ, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল, প্রিন্সেস ঘাট, ফোর্ট উইলিয়াম, বিশ্ব বাংলা গেট, নিউটাউন কফিহাউস, হরিনালয়, নজরুল তীর্থ দেখে নিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *