Category কবিতা

মেঘের আড়ালে

প্রিয়দর্শিনী মেঘের আড়ালে আছি আজ লুকিয়েমেঘেদের হয় অভিমান দেখায় বৃষ্টি রুপে!! আমারও হয় অভিমান প্রকাশিত হয় নীরবতার ভিরে…. নীরবে কাতর অশ্রুর থাকে তেমনি ঢেউ খেলা; সারাক্ষণ থাকে এই মুখে হাসিহীন এক সূর্যাস্তের রেখা….. নদীর স্রোতের কাছে প্রশ্নের সমুক্ষীণ কেন আজ…

নিশীথের নিঃশ্বাস

উম্মে হাবিবা ঘরের সিলিংয়ে চেয়ে থাকা এক নিস্তব্ধ রাত,হারিয়ে গেছে আশ্বাস, নেই কারো বাড়িয়ে দেওয়া হাত।বাতাসে ঘোরে কেবল এক অব্যক্ত হাহাকার,চারিদিকে দেয়াল জুড়ে কেবল জমাট অন্ধকার। ​প্রতিটা দীর্ঘশ্বাসে মিশে আছে তীব্র অভিমান,বেদনার সুরে আজ বিষাদে মগ্ন আমার এই গান।সময়ের চাকা…

মুখ থেকে মূকবলতে গিয়ে চুপ

কাজী.এস.আর.রাশিদা সম্মতির চাদরে নির্বাক মৌনতাজোরের পঙতিতে সে হাসে;সব সয়ে অপলক চাহনিবিন্দু নোনাজলে ভাসে।যা রটে সব ঘটেদু’পাপড়ির বসবাসে। সবই ধোঁয়াশার ধোঁয়াটেমৌনতা ভাঙবে চাঁদের হাটেহয়তো থাকবো উপহাসেলাগছে সব ধাঁধাহাসবে দাদা! যদিও এখন শূন্যপ্রশ্নোত্তরে ধাঁধাপূর্ণ!খুঁজলে তা পাবে। মুখ থেকে মূকবলতে গিয়ে চুপ!না বলা…

পোড়া রঙের নাম নেই

ক্ষতের দাগে আলো ডুবে যায় দেয়ালে চৌধুরী রুহাশ শব্দরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। রাত আসে — নিঃশব্দ, স্তব্ধ, ভারী। অন্ধকার শুধু দেখা যায় না, অনুভব করা যায় — হাঁটে, ঘুরে বেড়ায়, আঘাত করে নিজের ছায়ার মতো। বিগত ক্ষতগুলো শুকিয়ে যায়। কিন্তু…

স্বাধীনতার হাসি

কাজী.এস.আর.রাশিদা স্বাধীনতার স্বাদটা পেলেওঅন্ধকার কি হলো দূর!আজও দেখি হায়নার হাতেধারালো সেই বিষের ক্ষুর। হিংস্র থাবায় ঘায়েল করেস্বাধীনতার হাসির রেশ,একাত্তরের বিজয়ের স্বাদক্রমান্বয়ে হচ্ছে শেষ। স্বৈরাচারীর নাশকতায়কাটছে না’তো কালো রাত;খুন ধর্ষণ আর আহাজারিপদে পদে অভিঘাত। বর্বরতায় ছেয়ে গেছেস্বাধীনতার হাসি আজ;মৃত্যু মিছিল দোরগোড়াতেবাজায়…

ভালোবাসি বলেই

ইমাম হোসেন সবুজ “আমি ভালোবাসি বলেই,তুমি কাঁদাতে পেরেছো।আমি ভালবাসি বলেই,বৃষ্টিস্নাত শ্রাবণ সন্ধ্যায়,তুমি ফাগুনের গান গেয়েছো।আমি ভালোবাসি বলেই,তুমি বারবার ফিরে আসার বায়না ধরেছো।আমি ভালবাসি বলেই,তোমার চন্দ্রমাখা মুখখানি,মোর বুকের গহীনে দেখেছো।আমি ভালোবাসি বলেই,এতটা বছর ধরে পরম নিশ্চিন্তে,অন্যের ঘর করেছো।দেইনি তোমার সুখের পথে…

কবিতায় ভ্রমনের খসড়া

রানা সোহেল মেঘদূত (জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছি।মৃত্যুর প্রয়োজনেবড় হচ্ছি)–কবি নির্মলেন্দু গুনের কথাগুলো জীবনঘন।বড় হচ্ছি ভালোবাসার বৈতরনী বেয়ে।তোমার গাঙে।মৃত্যুর কাছে যাচ্ছি ভালোবাসার স্বপ্ন নিয়ে।তোমাকে বলেছি কত করে কতবার।ভালোবাসার কথা!হয়না হয়তো কবির মতো,,(ভালোবেসে যাকে ছুইসেই যায় দীর্ঘ পরবাসে।)কী অদ্ভুত!সহসা শব্দগুলো সত্য হয়ে…

আমার তন্দ্রাহরী

কাজী.এস.আর.রাশিদা খাঁচায় বন্দি রইবো না’কোসন্ধ্যা আঁধার ক্ষণে;শঙ্খচিলের রূপ ধরে তাইউড়ব আপন মনে। বিষাদ ঠেলে আলোর কোলেনুইয়ে দিয়ে মাথা;ছন্দ সুরে বুঁনবো তবেপ্রণয় নকশি কাঁথা। সে কাঁথাতে নন্দে নন্দেআঁকব প্রণয় ফুল;কাঁথা গায়ে তন্দ্রাহরীবসবে নদীর কূল। এলোচুলে কথার ভুলেবসে একলা একা;সন্ধ্যা তারায় খোঁজ…

কারাবাসে নিরুদ্দেশ

কাজী.এস.আর.রাশিদা ব্যস্ততার কোলাহলে নিজ ভূম যেননিষিদ্ধ শহরে আজ ঘুমন্ত!চেনা তটে পা বাড়ানো বারণ!অস্তিত্ব শ্বাসের বিপরীতে কারাবাসে হতে চায় নিরুদ্দেশ। জটিল সব ধাঁধা উত্তরের অপেক্ষায় হোঁচট খায়তবুও পদ্মঝিলে,জ্যোৎস্না নেমেছিল জলের বুকেআলো নিয়ে স্নানের বাহানায়! নিষেধাজ্ঞা শুধু নিষেধাজ্ঞা কুটুম্বিতায়!রগচটা সে অভিমানী অস্তিত্ব;কেমন…

নয়ন নিভৃত মায়া

উম্মে হাবিবা ​হে অনাদি অনন্তকাল, তব তমসায় জাগে মরীচিকা,হৃদয়-মুকুরে কাঁপে ক্ষণপ্রভাশালী এক অনির্বাণ শিখা।মর্ত্যের এই ক্লীব কোলাহল, এই শুষ্ক ধূলি-ধূসরিত ধরণী,পারাপার খুঁজিয়া ফেরে ভব-সিন্ধুর সেই বৈতরণী। ​তব নয়ন-পল্লবে আজি নীলিমার সেই গূঢ় অভিমান,অলোক-সামান্য রূপে সাজাইয়াছ তব মায়ার বিধান।তৃষিত চাতক সম…

বই

হৃদয় রাজ বাড়ৈ পড়তে বসে বইয়ের সনেহাজার কথা কই,আমার মনের হৃদ কাননেপুষ্প হলো বই। এই ভুবনে বই যে আমারবন্ধু পরম মিতা,বইয়ের মাঝেই লুকিয়ে আছেদুঃখ সুখের কথা। বই যে আমার আপন স্বজনভাঙা বুকের আশা,বসন্তের এই ফাগুন বেলারপ্রথম ভালোবাসা। বইয়ের মাঝেই রাত্রি…

হে তুমি

রানা সোহেল মেঘদূত হঠাৎ তোমার মততুমি,বাসস্টপে গাড়ী থেকেনামতে নামতে নেমে যাও আবারপুরোনো আমার গহীনে,তুমি।আবার নাড়তে নাড়তে উলট পালট করে দাওস্মৃতির ঝরাপাতা।তুমি।স্মিত হাসিতে জাগাও স্পন্দনদূর থেকেহয়তো নিকটেতুমি।আর আমি হারাই আমাকে আবার পুরোনো আবর্তে। সেদিন গিয়েছো চলেনা ফেরার শর্তেঝরতে ঝরতে চোখের জল…

শ্রেষ্ঠ বীরাঙ্গনা

কাজী.এস.আর.রাশিদা নারী নয়তো দুর্বল আজনহে হেলার পাত্রী;জগৎ জুড়ে নারীরা আজমুছায় কালো রাত্রি। মেট্রো থেকে বৈমানিকেকর্মগুণে সেরা;চার দেয়ালে নয়তো কভুতাদের আয়ু ঘেরা। ছোট ও বড় সব কাজেতেঊর্ধ্বে নারী আজ;চাঁদের দেশে পাড়ি দিয়েইপড়লো শিরে তাজ। জায়া জননী শ্রেষ্ঠ ঘরণীপ্রভুর সেরা দান;নরের চেয়ে…

কাজেই সম্মান

হুসাইন আহমাদ দিন কাটিলো হেলায় দোলায়কাজের খবর নেই!দিন ফুরিয়ে আফসছেরসীমা রেখা নেই। অলসতায় ছেয়ে গেছেপুরো শরীরটা!তাই তো এখন কাজ করিতেভালো লাগেনা। বড়ো হওয়ার স্বপ্ন দেখিদিবস-রজনি!কাজ করিতে চাইনা আমিএকটুও খানি। কেমনে বড়ো হবো আমিকাজ না করিলে!কাজ করিলে মানুষ সবেসম্মান করিবে।

নারীদিবসের কবিতা

বীরাঙ্গনা নারী কাজী.এস.আর.রাশিদা মেট্রো থেকে বৈমানিকেদেখতে পাবে নারী;সকল কাজেই অগ্রগামীমহাকাশ দেয় পাড়ি। উন্নয়নের জোয়ারেতেসফল নারী কর্মে;নামাজ রোজাও সমান তালেনয় পিছিয়ে ধর্মে। নারীরা আজ পারদর্শীছোট বড় কাজে;মনোবল টা শক্ত রেখেলড়ছে সকাল সাঁঝে। প্রযুক্তিতে নারীরা আজনেইকো পড়ে পিছে;সব কিছুতেই সমান সমানকিছুতেই নাই…

কেটেছে মেঘ

প্রিয়দর্শিনী এ-এক মূহুর্তেহৃদয় আছে থমকে যেন হয়ে দীর্ঘকায়!!কত না অভিমানের মেঘ কাটিয়েহতে সামিল আমি পুনরায়…কেটেছে দিন আমার কি যে অপেক্ষায়…..কি যেন ভেবেছে মন বলবে তোমায়!!! কত কথা জমেছে বুকেপাহাড়ও মানবে হারআমার অভিমানের সন্নিকটে… যতটা ছিলেম লুকিয়েওই আকাশের তারাও থাকে কিকখনোই…

অদ্বৈতনিশীথ

উম্মেহাবিবা আমি—বিবিক্ত,হ্যাঁ—একান্তই নিভৃত এক তপোবনে,মোর চেতনার গহীনেএই -কৈবল্য’ই বড্ড প্রিয়।ঘনকৃষ্ণ ঐ তমসাবৃত কক্ষ—যেথা মৌনতা রচেএক মায়াবী বিভীষিকা,সেথা মোর আত্মিক প্রশান্তিখুঁজিয়া পায় তার আদিম সোপান।​যবে নিশীথিনী জাগে,মোর বিবাগী মনধায় ঐ উন্মুক্ত গগন-অঙ্গনে,শশধর-এর সাথেরচে এক অলৌকিক -সংলাপ।হস্তে মোর ধূমায়িত দুগ্ধ-সুধা,যাহার ঊষ্ণ বাষ্পেমিশিয়া…

তোমাকে পাওয়ার পর

উড়নচণ্ডী তোমাকে পাওয়ার পর রবের কাছে আর কিছু চাওয়ার থাকে না—যেমন করে চাওয়ার থাকে না ভিখারির; পেটপুরে খেয়ে সাথে দুটো খুচরা পয়সা পেলে।তোমাকে পাওয়ার পর রবের কাছে আর কিছু চাওয়ার থাকে না—যেমন করে চাওয়ার থাকে না কৃষকের; মাঠ ভরা ফসলের…

শীতল প্রেমের প্রাণ

রানা সোহেল আজ কেমন জানি হীম শীতল দেহটা।কেমন জানি নিজেকে নিষ্প্রাণ ফডিঙের মতো,,পড়ে থাকা শীতার্ত মমির মতোমনে হয়। মনে হয় আমি নেইদেহটা কেবল পৃথিবীতে জায়গা দখল করে আছে।প্রেমহীন জীবন বোধয় এমনই।আমি ভালোবাসার আরাধ্যে কতরাত করেছি ধ্যানজলরঙে ডুবে।কত ভোর কেটেছে নিরব…

উপন্যাসের শেষ পাতায়

কাজী.এস.আর.রাশিদা গোধূলির শেষ লগ্নে ক্লান্ত রবি যখন তটিনীর কোলে আশ্রয় খোঁজেক্লান্তি নাশে পোড়া পাঁজরের উষ্ণতা শীতল স্রোতে ধুয়ে নিতেঠিক তখনি বামপন্থী উপহাসেনির্ঝরিণী হেসে ওঠে স্নানের বিপরীতে। অলিখিত অলংকারে ছন্দের পতনআঁধারে ছিল শূন্যতার কোলাহলঅচেনা শহরে যার পাড়ি ভিড় ঠেলে,বিষাদের ঘ্রাণ ছুঁয়ে…