ঘুমের পাহারা


চৌধুরী রুহাশ

হাসতে মানা
কাঁশতে মানা
ছোট্ট বাবু ঘুমাচ্ছে…
জানলা গলে
লেপের তলে
রোদ এসে চুমাচ্ছে…

পাখির ডাকে
পর্দা ঢাকে
আলো একটু কাঁপে,
ঘুমের মাঝে
স্বপ্ন সাজে
নিঃশব্দ পরিমাপে।
ছোট্ট হাতের
মুঠো ভাতের
গন্ধ আঁকে বুকে,
এই চাদরে
সেই আদরে
থাকুক চিরসুখে।

মশা উড়ছে
ধোঁয়া পুড়ছে
মানুষ মারার কয়েলে,
পা নাড়ছে
গরম বাড়ছে
দাম বাড়ছে অয়েলে…

রাস্তার শোর
বন্ধ দোর
তবু ঢোকে কানে,
রিকশার ঘণ্টা
ভাঙা মনটা
থামে না কোনো টানে।
ইটের গন্ধ
রোদের বন্ধ
গলিটা ঘামে ভেজে,
তবু ঘরে
শিশু ঘেরে
ঘুমায় সব সেজে।

মা বসছে ঘরে
চুপটি করে
মাথার পাশে হাত,
বাবার দমে
হিসেব জমে
ঘুমহীন সারারাত।

মায়ের চোখে
না-বলা শোকে
একটু জল জমে,
তবু সরায়
মুখ ফিরায়
শিশুর মুখের ছমে।
আঁচল দিয়ে
বাতাস নিয়ে
ডানার মতো ঢাকে,
এই মমতা
এই ক্ষমতা
পৃথিবী কোথায় রাখে?

বাবা ফেরে
সন্ধ্যা ঘেরে
ক্লান্তি মেখে গায়,
দরজা খুলে
সব ভুলে
ছোট মুখটাই চায়।
হিসেব থাকে
পকেট ফাঁকে
ভাঁজে রাখা মন্ত্রণা,
তবু হাসে
কাছে আসে
ভুলে যায় যন্ত্রণা।

দুধের কৌটা
শূন্যে ছুটা
চিন্তা ভাঁজে কপাল,
বাজার থামে
আগুন দামে
পুড়ছে সকাল-বিকাল।

চালের দাম
তেলের কাম
নুনেও লাগে ঋণ,
তবু বাঁচে
স্বপ্ন আঁচে
কোনোমতে প্রতিদিন।
পাড়ার মোড়ে
মানুষ জোরে
কথা বলে রাগে,
কিন্তু ঘরে
শিশু ঘেরে
থামে সব অনুরাগে।

শূন্য থালা
রাতের জ্বালা
তবু জ্বলে বুকে,
ভালোবাসার
ছোট্ট সার
মেলে এই ঘুমের মুখে।

তবু আসুক ফুঁড়ে
এই ঘর জুড়ে
শান্তির ছোট আলো,
এই ঘুমটাকে
ভুলিয়ে রাখে
যা কিছু লাগে কালো।

স্বপ্ন থাকুক
নরম ডাকুক
ঘুমের ভেতর ডানা,
দুঃখ হোক
একটু রোখ
কষ্টের মাঝে জানা।
এই শিশুর
হাসির নূর
একদিন ভাঙবে রাত,
এই বিশ্বাসে
ভোর আসে
জড়িয়ে ধরে হাত।

হাসতে মানা
কাঁশতে মানা
ছোট্ট বাবু ঘুমাচ্ছে…
বাইরের সব
অনেক কলরব
দরজাতে চুমাচ্ছে।

পৃথিবী জাগে
কোলাহলে ভাগে
সংসার টানে চলে,
কিন্তু এই
ছোট্ট সেই
ঘুম যেন কথা বলে —
*”আমি আছি,
কাছে আছি,
আলো আছে না!
ভোর হবে,
সুখ আসবে —
ঘুমাও আমার মা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *