পরজনমের তরে

মানছুরা শারমিন

পরের বার যখন জন্মাব
মানুষ হয়ে জন্মাব নাকো আর,
ফড়িং হয়ে খোলা মাঠে
দোয়েলের শিসের তালে
হরিয়ার ইশারাতে তাক দুম্ দুম্ নেচে বেড়াব।

পরজনমে আমি জলময়ূর হব
উত্তাল নৃত্যে সবার আঁখি জুড়াব,
হলদে পাখি রূপে দ্বারে দ্বারে ঘুরে
অতিথির আগমনী বার্তা শুনাব।

মানুষ হয়ে তবু জন্মাব নাকো আর
যারা অকপটে করে নাশ সভ্যতার।
বিধ্বংসী অস্ত্রের যারা করেছে আবিষ্কার,
মর্ত্যে মানুষের চেয়ে ভয়ানক দেখেনি এ দুচোখ -আমার
মানুষ মানুষের ধ্বংসক।

কখনো প্রজাপতির ন্যায় গুটি পোকা থেকে- পাখা গজালে
বন্য পাতা ছেড়ে চৈত্রের চৌচির রোদ্দুরে,
নীলাকাশের নিচে উড়ে বেড়াব।
কাক হয়ে কেঁদে যাব
প্রিয়জন হারানোর শোকে,
বাঁধবনা নীড় অন্য কোথাও
যখন আমার অপ্সরা যাবে চলে।

পরের বার আমি তিলা ঘুঘু হব
বাঁশ ঝাড় হতে পাহাড়ের চূড়ায়,
একাকিত্বের সুর আর বেদনার।
শাউনের দিনে বাবুইয়ের ঝাঁকে
পাকা ধান খেতে ঘুরে বেড়াব।

মাঘের শিশির হয়ে কাঁচা ঘাসের উপর
আদিত্যের স্পর্শে মুক্তা দানার মত জ্বলব,
চপাইগাওয়ের বিল থেকে মাছরাঙা হয়ে
বর্ষায় রাঙা পুঁটি ধরব।
মানুষ হয়ে তবু জন্মাবো নাকো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *