ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক যানজট মুক্ত হোক

খাদিজাতুল খোরশেদ খুশি : রাজধানী ঢাকা এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় জেলা হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য যাহবাহন ও যাত্রী চলাচল করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে।ঢাকা হচ্ছে রাজধানী শহর।রাজধানী কেন্দ্র করেই মূলত মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য সংগঠিত হয়।অন্যদিকে ঢাকা জেলার পাশেই শিল্প এলাকা গাজীপুরের আনাচে কানাচে জুড়ে রয়েছে কয়েক হাজার শিল্পকারাখানা।কর্মসংস্থানের জোগান পেতে গাজীপুরমুখী হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজন।আর এই লোকজনের যাতায়াতের অন্যতম পথ হচ্ছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। কিন্তু দিনদিন এই রাস্তায় মানুষের যাতায়াত করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে জ্যামের কারনে।ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জ্যামে।

বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার থাকলেও জ্যামজট দূর হচ্ছে নাহ। উল্টো ফ্লাইওভারের উপরেও জ্যামের লেগে থাকে। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী গাজীপুর থেকে রাজধানী ঢাকায় আসে ক্লাস করার জন্য। কিন্তু জ্যামের কারনে এদের প্রায়শই মিস করতে হয় ক্লাস। কর্মজীবী যারা গাজীপুর থেকে রাজধানী ঢাকায় এসে অফিস করে উনারা হাতে ঘন্টাখানেক সময় অতিরিক্ত নিয়ে বের হলেও বিলম্বে পৌঁছাতে হয় কর্মক্ষেত্রে। এমন দুর্ভোগের চিত্র প্রতিদিনই দেখা যায়।

যানজটের অন্যতম কারন গুলো হচ্ছে : ফুটপাত দখল করে রাখা,ট্রাফিক আইন না মানা,উল্টো পথে যান চলাচল, অটোরিকশার বিশৃঙ্খলা,,মাঝরাস্তায় বাস থেকে যাত্রী উঠানো-নামানো। এসব ছাড়াও দেখা যায়,গার্মেন্টসকর্মীরা বেতন না পাওয়ায় তারা রাস্তা অবরোধ করে বসে আছে। এতে ভোগান্তি তে পড়ে ঐ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা। গাজীপুরের গার্মেন্টস শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করলে ময়মনসিংহ থেকে কোনো যানবাহন ঢাকায় পৌঁছাতে পারে না। ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা শেরপুর,জামালপুর,নেত্রকোনা এলাকা থেকে আসা ঢাকা মুখী গাড়ীগুলোও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ব্যবহার করে। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ীর চাপ সবসময়ই থাকে বেশি।

এমনকি এই মহাসড়কের জ্যামের কবল থেকে রক্ষা পায়না কোনো অ্যাম্বুলেন্স।গাজীপুর অথবা বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহ থেকে কোনো গুরুতর রোগীকে ঢাকা পাঠানো হলে জ্যামের কারনে কয়েক ঘন্টা দেড়ি হয় পৌঁছাতে।এতে গুরুতর রোগীদের জীবন নিয়ে টানাপোড়েন লেগে যায়। যে সময়টুকু রোগীর জরুরী চিকিৎসা দরকার সে সময়টাতে রোগীকে জ্যামে থেকে যন্ত্রনায় ছটফট করতে হয়।

যেহেতু ঢাকা রাজধানী শহর,গাজীপুর শিল্প নগরী আর ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর সেহেতু যতদ্রুত সম্ভব ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জ্যামজট কমিয়ে আনা জরুরী। দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনা করলে গাজীপুর ও ময়মনসিংহের অবদান অনেক। গাজীপুরের পোশাক কারখানা গুলোতে তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হয়। ঢাকার রপ্তানি বাণিজ্যর বড় অংশ উৎপাদন হয় গাজীপুরে।এদিকে ময়মনসিংহ থেকে নিয়মিত খাদ্য দ্রব্য সরবরাহ করা হয় ঢাকায়।প্রতিদিন অসংখ্য খাদ্যদ্রব্যর মালবাহী যানবাহন ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসে।কিন্তু এই জ্যামের কারনে গন্তব্য পৌছাঁতে সময় লেগে যায় দ্বিগুণ।সুতরাং ঢাকা দেশের রাজধানী হলেও দেশের অর্থনীতিতে সাপোর্ট দিচ্ছে পাশ্ববর্তী গাজীপুর,ময়মনসিংহ। এই তিনটি অঞ্চল মিলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভারসাম্য ও গতিশীলতা দেয়।সেসব দিক বিবেচনা করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক জ্যামজট মুক্ত করার জন্য সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এই মহাসড়কের জ্যাম কমাতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।যেমন: যেসব পয়েন্টে গাড়ীর চাপ বেশি সেখানে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা,ট্রাফিক আইনে কড়া নজর দেয়া,ফুটপাত-অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেয়া,দাপ্তরিক কাজ ঢাকার বাহিরে স্থানান্তর করা,বিকল্প বাইপাস সড়ক তৈরি করা,অটোরিকশার চলাচল বাতিল করা প্রভূতি।এসব ছাড়াও মেট্রোরেল যদি গাজীপুর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায় সেক্ষেত্রে শিল্প এলাকা ও রাজধানীবাসীরা একটু জ্যাম থেকে রেহাই পাবে। এতে যে সকল শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করেন তারা কম সময়ে গাজীপুর থেকে ঢাকা আসতে পারবে অল্প সময়ে।সুতরাং আমি মনে করি,দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ যাত্রীদের স্বস্তির দিকে দৃষ্টিপাত করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট মুক্ত করা।

লেখিকা : শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ,ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *