চৈত্র ভ্রমণ


রানা সোহেল মেঘদূত

সূর্য রক্তিম দগ্ধ আকাশের তলে
রোদ্দূরের বৃষ্টিতে অপেক্ষায়,
শুকনো পাতাদের দলে
পড়ে আছি।
পড়ে আছি পাতার মর্মরে।
আম কাঠালের ডালে
শালিকের কিংবা চড়ুয়ের
নিরবতার মতো নিঝুম আমি,
দুপুর হয়ে পড়ে আছি,
পড়ে আছি নিঃশব্দ চিৎকারে।
চৈত্রের এ ঘাম ঝরানো
চিত্রের রঙে
তবুও কি না এঁকে পারি
তোমার মুখের আদল।
না লিখে পারি তোমার নামে
এক বিদগ্ধ কবিতা।!
বৈশেখের খোলা ঝড়ে যে ছবি,
যে কবিতা
আমাকে আবার স্বপ্নের নায়ে ভাসায়।
ছেঁড়া পালে ভাঙা বৈঠায়
যে নাও মাঝ দরিয়ায়,,
সে ঢেউ বুকে নিয়ে পড়ে আছি।

প্রতিটি বৈশেখে তোমার নামে
একেকটি ছবি,
একেকটি কবিতা
অপেক্ষা করিয়ে ছাড়ে।
অপেক্ষায় পড়ে আছি
পড়ে আছি রোদের মতো মেঘের ভাঁজে,
সহস্রকাল।
খুব জানতে ইচ্ছে করে আজকাল,
তাঁতের শাড়িটি কেমন আছে,
নকশি করা সেই শাড়িটা।
আমার আঁকা সেই দেয়ালে
কোন ছবিটা টাঙানো,
তোমার প্রিয় মাটির গহনা
এখনও কি প্রিয় তোমার।?
পাঠ করো কি বিকেল বেলায় জীবনানন্দ,
সন্ধায় রবীন্দ্রনাথ?

চৈত্রের এ উদোম রোদে অপেক্ষায় পড়ে আছি,,
তুমিইতো বলেছিলে-
কোনো এক চৈত্রের শেষে
দেখা হবে তোমার আমার।
ভালোবাসা আমাকে আর কত
অপেক্ষার ক্যালেন্ডার দেবে।
এবারও কি নতুন ক্যালেন্ডারে লিখতে হবে
চৈত্র সংক্রান্তি,
“দেখা হলো না”?
এবার কিন্তু
পহেলা বৈশেখের প্রথম প্রহরে সারা শহরে,
আলপনা করে এঁকে দিবো
সেই তাঁতের শাড়ির নকশির আদলে,
দেয়ালে দেয়ালে লিখে দেবো
তোমার নামে লেখা সব কবিতা।
দেখবো,
তখন তুমি এসে শাঁসাও কিনা
“বন্ধ কর তোমার এসব পাগলামি”
বলে।
এবার বঙ্গাব্দে এমন সকালের পরিভ্রমন হবে।
তাও যদি না হয়,
তবে ভেবে নিবো
ভালোবাসা বলে আমার কোথাও
কোনো অস্তিত্ব ছিলো না।
কোনো স্মৃতি ছিলো না।
ক্যালেন্ডারে
চৈত্র সংক্রান্তি নাম মাত্র।
কোনাো অপেক্ষার নয়।
অপেক্ষার কোনো গল্প ছিলো না।
ভেবে নিবো,
প্রেমিকরা চিরকাল তালপাতার সেপাই।
হাতটি নাড়ায়
মাথাটি নাড়ায়।
প্রেম চিরকাল নাগরদোলা
দুলছে কেবল
দুলছে কেবল।
অপেক্ষা চিরকাল লাটিম শুধু,,
ঘুরে ফিরে সে বিন্দুতে থেমে যাওয়া।
পড়ে আছি,
পড়ে আছি সে বিন্দুতে
যেখানে ঠিক দেখা হবে
কথা ছিলো।
কথা ছিলো।
কথা ছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *